শামীম হোসেনের সেই ‘নো লুক’ ছক্কাটা চোখে লেগে থাকার মতোই। নন–স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে দেখলে মুগ্ধতা আরও বাড়ে। তবে শুধু ওই শট নয়, শামীমের পুরো ব্যাটিং ধরনই ভীষণ পছন্দ তাওহিদ হৃদয়ের। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বললেন, ‘আমি অনেক উপভোগ করি ওর ব্যাটিং। কারণ, ও এমন শট খেলে, যেটা আমাদের কম ব্যাটসম্যানই পারে।’
শুধু শামীম নন, গত এক বছরে বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটই বদলে গেছে। ব্যাটিংয়ে এসেছে আক্রমণের ঝাঁজ। চট্টগ্রামে আজ ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৮ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও হৃদয়। পারভেজ আউট হলেও হাফসেঞ্চুরি করে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন হৃদয়। নিজের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে বললেন, ‘পরিকল্পনা ছিল আমি আক্রমণ করব। কারণ, আমি যদি তা না করি, দলের জন্য কঠিন হয়ে যেত। চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে।’
Visit amunra.qpon for more information.
অপরাজিত ৫১ রানের পথে দারুণ কিছু শট খেলেন হৃদয়টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর এই তিনজনের ইনিংসেই রেকর্ড রান তাড়া সম্ভব হয়েছে। সতীর্থদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হৃদয় মনে করিয়ে দিলেন, ‘৫–৬ নম্বর এমন জায়গা, এখানে হঠাৎ এক–দুই দিন ফিফটি হবে। কিন্তু শামীম ও ইমনের ইনিংসটা আমার কাছে ফিফটির চেয়েও বড় মনে হয়েছে। আসলেই ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমাদের বুঝতে হবে।’
হৃদয়–শামীমে রেকর্ড জয় বাংলাদেশেরনিজে ফিফটি করেছেন, ম্যাচ জিতিয়েছেন। আনন্দটা তাঁর জন্য একটু বাড়তি হলেও দায়িত্ববোধই বড় হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘এটা তো ক্রিকেট। একদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে, একদিন মিডল অর্ডার খারাপ হবে। যেদিন ওপরে রান আসবে না, সেদিন মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আবার যেদিন ওপরে ভালো হয়, সেদিনও দায়িত্ব থাকে। দলীয় খেলায় সবাই নিয়মিত ভালো করবে না, এটাই স্বাভাবিক।’
তবে দায়িত্বের সঙ্গে আছে কিছুটা অভিমানও। ওয়ানডেতে ৪ নম্বরে নেমে প্রায় ৪০ গড়ে ব্যাটিং করলেও এখন খেলছেন ৬ নম্বরে। টি–টুয়েন্টিতে আজ ৪ নম্বরে নেমে রান করেছেন। নিজের জায়গা বদলে যাওয়া নিয়ে হৃদয়ের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ, ‘যদি খেয়াল করেন আমি কেমন করেছি ৪ নম্বরে, সেটা আমি বলতে চাই না। পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন। কিন্তু খেলার ইচ্ছা তো থাকেই। সব সময় ইচ্ছা পূরণ হয় না, কারণ দলটা আমার নিজের না।’
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে হৃদয়ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এ জায়গায় খেলছেন হৃদয়। তাই ওপরে ব্যাটিং করার ইচ্ছাটা স্পষ্ট করেই জানালেন, ‘আমি খেলতে পারছি না টিম কম্বিনেশনের কারণে।
ম্যানেজমেন্ট হয়তো অন্য অপশনকে ভালো মনে করেছে। পেশাদার ক্রিকেটে যদি বলে ৭–৮–৯–এ নামতে হবে, সেটাই করব। কারণ, জাতীয় দলে ওপেন ছাড়া সব জায়গায় খেলেছি। আশা করি একদিন ওপেনও করব।’
আইসিসি ও এসিসিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আসলে কে—তামিম না আমিনুল?