ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে ভোটের প্রচার শেষ হচ্ছে আজ সোমবার সন্ধ্যায়। দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী বুধবার। প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা টহল দিচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়। দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ২৩১ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বাহিনী থাকবে কলকাতায়। এ নির্বাচনের ভোট গণনা ৪ মে।
এদিকে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটদানের তিন দিন পরে চূড়ান্ত ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা নির্বাচন কমিশনের মতে স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ। জেলাভিত্তিক হিসাবে, কোচবিহারে সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে কালিম্পঙে সর্বনিম্ন হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
কোথায় কত বাহিনী
প্রথম দফায় ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও ভোট শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার পরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। সেখানে ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। অন্যাদিকে হুগলি গ্রামীণে ২৩৪ কোম্পানি, বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৬১ কোম্পানি, বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৬০ কোম্পানি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি, হাওড়া গ্রামীণে ১৪৭ কোম্পানি, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১৩৫ কোম্পানি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ১২৭ কোম্পানি, বসিরহাট পুলিশ জেলায় ১২৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে।
পাশাপাশি সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১১৩ কোম্পানি, বারাসত পুলিশ জেলায় ১১২ কোম্পানি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ১১০, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে ৮৩, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ৫০ এবং আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। এক একটি কোম্পানিতে মোটামুটিভাবে ১০০-১১০ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন।
আনা হয়েছে ভুয়া বন্দুকযুদ্ধ পুলিশ অফিসারকে
এই বিপুল বাহিনীর দায়িত্বে যাঁরা থাকছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট, অর্থাৎ ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের বিশেষজ্ঞরাও। যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশ থেকে এই রকমই এক কর্মকর্তা অজয়পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক করে রাজ্যে আনা হয়েছে। নতুন যে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে আনা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলা নয়ডা, রামপুর, সামলি জৌনপুরে যখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন, তখন সেখানে অভিযুক্তদের বন্দুকযুদ্ধে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় তৃণমূল প্রবল শক্তিশালী। সেখানে কেন এমন একজন অফিসারকে দেওয়া হলো, যাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে জেলা ও রাজ্যে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয় দফায় প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য থাকছেন একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক। অর্থাৎ এই সংখ্যাটি হলো ১৪২ জন। এ ছাড়া থাকছেন, ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক।
অনুপ্রবেশই অন্যতম প্রধান ইস্যু
এই পর্যায়েও অনুপ্রবেশই বিজেপির প্রধান ইস্য। গতকাল রোববার তাঁর শেষ দিনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথিত অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাদের হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বনগাঁ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, যারা অবৈধভাবে বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং ভুয়া নথির ভিত্তিতে এখানে বসবাস করছে, তারা ২৯ এপ্রিলের আগে বাংলা এবং ভারত ছেড়ে দিন। আর তা না হলে ৪ মের পর সব অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়ন করা হবে।’
