যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার দিবাগত রাতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ আগ্রাসনের জবাবে তারা কুয়েত ও বাইরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে গতকাল শনিবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির তেহরানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গতকাল রাত ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসলামাবাদ নাকভির তেহরান সফরের কথা নিশ্চিত করেনি।
Visit arroznegro.club for more information.
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, নাকভি এপ্রিল ও মে মাসেও একাধিকবার তেহরানে সফরে গেছেন। গতকাল এমন এক সময়ে নাকভির তেহরান সফরের কথা সামনে এল, যখন তিনি গত শুক্রবার কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। এর ৪০ দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়। এর পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ অন্য মধ্যস্থতাকারীরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই শুক্রবার সিএনএনকে বলেন, জব্দ করা ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়বে কি না, সেটার ওপর সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে।
ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বলে একাধিকবার দাবি করলেও তিনি স্বীকার করেছেন, তেহরানের কাছে এখনো প্রায় এক-পশ্চমাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ছবিটি বন্দর আব্বাস সৈকতের কাছেমার্কিন ঘাঁটি ও নৌবহরে হামলার দাবি ইরানের
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাতে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাবে তারা কুয়েতে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
গতকাল ভোরে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্ররোচনা ও নির্দেশনায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়া চারটি তেলবাহী ট্যাংকার অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করে। পরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। আর অন্যান্য জাহাজ ফিরে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও সিরিকের আরেকটি টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসনের জবাবে আইআরজিসির দ্রুত কুয়েতে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির নাম আলি আল-সালেম। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নিশানা করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সে হামলার ভাষ্যটি ভিন্নভাবে এসেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এই বার্তা সংস্থাকে জানান, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান চারটি ড্রোন পাঠায়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের নজরদারি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি ভূপাতিত করা হয়েছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের এ ধরনের হামলা ‘স্পষ্ট আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড’। এসব হামলা একদিকে আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে উপেক্ষা করেছে, অন্যদিকে কুয়েতের বাসিন্দা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে।
ইরানের ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইরানের সঙ্গে চলমান অজনপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করতে চাপে থাকা ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে বলেন, তাদের (ইরানের) কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। শতাংশের হিসাবে বললে, তাদের হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
শুক্রবার সম্প্রচারিত এ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের নেতারা যদি তাঁর ভাষ্যমতে চাপে থাকেন, তাহলে তাঁরা কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হচ্ছেন না? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ তাঁরা শক্তিশালী। একই সঙ্গে তাঁরা অহংকারী। আগে কখনো করার কথা ভাবেননি, এমন কিছু কাজ তাঁদের করতে হবে। কিন্তু তাঁদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।’
