পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রামে গেলে এখনো চোখে পড়ে সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যতিক্রমী শিল্পের চিত্র। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া ছাড়াই প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো পদ্ধতিতে এখানে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ। পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে আগুনে সেদ্ধ করার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই লবণ শুধু একটি পণ্য নয়; বরং একটি সংগ্রামী ইতিহাসের অংশ।
Visit bettingx.bond for more information.
এই শিল্পের পেছনে রয়েছে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ের এক গল্প। সে সময় দেশে দেখা দেয় লবণের সংকট। ঠিক তখনই ঝালকাঠির লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশে পড়ে থাকা লবণমিশ্রিত মাটি সংগ্রহ করে তা থেকে লবণ তৈরির উদ্যোগ নেন ডুবি গ্রামের এক বাসিন্দা। নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য শুরু হলেও পরে তা হয়ে ওঠে গ্রামের মানুষের জীবিকার নতুন পথ। ধীরে ধীরে আরও অনেকে এই কাজে যুক্ত হন এবং গড়ে ওঠে ছোট ছোট লবণ উৎপাদনকেন্দ্র।
প্রতিদিন ভোর চারটায় শুরু হয় কর্মব্যস্ততা, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম থেকে আনা লবণমিশ্রিত মাটি বড় ট্যাংকে পানির সঙ্গে মিশ্রণ করে গলানো হয়। পরে সেই মিশ্রণ ছোট ছোট চৌবাচ্চায় জমিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা হয়, যাতে মাটির ভেতর থাকা লবণ পানির সঙ্গে আলাদা হয়ে আসে। এরপর সেই লবণাক্ত পানি ডোঙ্গায় ঢেলে বড় চুলায় জ্বাল দেওয়া হয়। টানা ছয় থেকে সাত ঘণ্টা আগুনে সেদ্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে তৈরি হয় সাদা ঝরঝরে লবণ। চুলার আগুন, ধোঁয়া আর উত্তাপের মধ্যেও শ্রমিকেরা নিরলসভাবে কাজ করে যান। পরে এই লবণ স্থানীয় কারখানায় নিয়ে আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর বাজারে পৌঁছে যায় ডুবি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লবণ। পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের চাহিদা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
খালের পাড়ে লবণ তৈরির কারখানাচট্টগ্রাম থেকে আনা মাটি কেটে গলানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকলবণমিশ্রিত পানি ছোট চৌবাচ্চায় রাখা হচ্ছেকারখানায় কাজ করছেন এক শ্রমিকজ্বাল দেওয়ার পর লবণ ছেঁকে পানি ঝরিয়ে নিচ্ছেচুলা থেকে নামিয়ে সেদ্ধ করা লবণ দেখাচ্ছে তৈরি শেষে লবণ এনে একটি বাক্সের মধ্যে রাখা হচ্ছেআয়োডিন মেশানোর পর কারখানায় প্যাকেট করা হচ্ছে লবণ