একীভূত ব্যাংকের ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবি

· Prothom Alo

‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হচ্ছে’—এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। এ কারণে ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিল করে আমানত ও মুনাফা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকগুলোর রাজশাহী অঞ্চলের গ্রাহকেরা। সেই সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আজ রোববার মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

Visit moryak.biz for more information.

আজ সকালে রাজশাহী নগরের অলংকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন রাজশাহী অঞ্চলের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর থেকেই তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো. আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো. ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ উল্লেখিত পাঁচ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন গ্রাহক। তাঁরা বলেন, অনেক পরিবার জমি-বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, অবসর কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত তাঁদের সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়; কিন্তু দুই বছর ধরে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতকারীরা মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ জন্য মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে,‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিল করে পুরো মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত, অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু, স্থায়ী আমানত, সঞ্চয় আমানতসহ বিভিন্ন আমানতের পুরো মুনাফাসহ পরিশোধ এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার।

Read full story at source