বলিউডের নবীন অভিনেত্রী শানায়া কাপুরের প্রথম ছবি ‘আখোঁ কী গুস্তাগিয়া’য় অভিষেকেই নজর কাড়েন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর তিনি ভিন্ন স্বাদের আরেকটি চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় এসেছেন।
পরিচালক বিজয় নাম্বিয়ারের ‘তু ইয়া ম্যায়’–এ আদর্শ গৌরবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শানায়া। ছবিতে ‘ইনফ্লুয়েন্সার অবনী’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে তাঁর স্ক্রিন উপস্থিতি, অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং আদর্শ গৌরবের সঙ্গে রসায়ন আলাদা করে নজর কেড়েছে। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের টপ টেনের জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে ট্রেন্ডিংয়েও রয়েছে ছবিটি, যা শানায়ার ক্যারিয়ারের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
‘তু ইয়া ম্যায়’ ছবির চিত্রনাট্য ঘোরাফেরা করে এমন এক জুটির চারপাশে, যারা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে নিজেদের সম্পর্ক ও জীবনের গভীর মানে আবিষ্কার করে। পরিচালক বিজয় নাম্বিয়ার এর আগেও ‘শায়তান’, ‘ডেভিড’ ও ‘কারওয়া’র মতো ব্যতিক্রমী গল্প দর্শককে উপহার দিয়েছেন। এবার তিনি এই সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের এক আবেগঘন সফরে নিয়ে যেতে চলেছেন।
সমালোচকেরা বলছেন, এই সিনেমা প্রেম, ভয়, লোভ, শ্রেণি-সংঘাত আর বেঁচে থাকার কঠিন সমীকরণের মধ্যে আটকে থাকা এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। ‘তু ইয়া ম্যায়’ ছবিতে পরিচালক বিজয় নাম্বিয়ার এক নতুন ঘরানা নিয়ে নিরীক্ষা করেছেন। সারভাইভাল থ্রিলার। দুজন বিপরীত মেরুর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আর একটি কুমিরকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তোলেন এক অদ্ভুত প্রেম-থ্রিলারের ত্রিভুজ।
‘তু ইয়া ম্যায়’–এর দৃশ্য। আইএমডিবিমুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ঝলমলে, কৃত্রিম দুনিয়ায় মুখোমুখি হয় অবনী শাহ ও মারুতি কদম। অবনী নিখুঁতভাবে সাজানো জীবনের প্রতিনিধি। তাঁর প্রতিটি পোস্ট হিসাব করা, প্রতিটি উপস্থিতি পরিকল্পিত। অন্যদিকে মারুতি রাস্তায় বড় হওয়া এক র্যাপার। যে এই দুনিয়ায় নিজের জায়গা তৈরি করতে মরিয়া। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায়। কিন্তু এই প্রেম আদতে দুই ভিন্ন শ্রেণির দূরত্ব, লুকিয়ে থাকা হীনমন্যতা আর ব্যক্তিগত শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়ানো। অবনী চায় তার বিলাসী নিঃসঙ্গতা থেকে বেরোতে, মারুতি চায় সামাজিক সিঁড়িতে দ্রুত ওপরে উঠতে। দুজনেই নিজেদের পুরোনো পরিচয় বদলাতে চাওয়া মানুষ।
মুক্তির বিতর্কের পর টপ চার্টের শীর্ষে, কী আছে এই সিনেমায়ঘনিষ্ঠতার আসল পরীক্ষা শুরু হয়, যখন গোয়ায় পালানোর পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বর্ষার দাপটে। এক পরিত্যক্ত হোটেলে যান্ত্রিক বিপর্যয়ে তারা আটকে পড়ে শুকনো সুইমিংপুলের গভীরে। চারপাশে ধীরে-ধীরে জল জমতে থাকে। ওপরে ওঠার কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না তারা। আর অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায় এক ভয়ংকর শিকারি কুমির। এই পরিস্থিতিতে ভালোবাসা আর বিশ্বাস দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে। তখন ছবির শিরোনামটাই হয়ে ওঠে নির্মম প্রশ্ন—তুমি না আমি?
‘তু ইয়া ম্যায়’–এর দৃশ্য। আইএমডিবিসমালোচকেরা বলছেন, থাই হরর ছবি থেকে নেওয়া মূল ভাবনা হলেও, বর্ষাস্নাত মুম্বাইয়ের প্রেক্ষাপটে গল্পটি নতুন সামাজিক অর্থ পায়। একবার দেখার জন্য ছবিটি মন্দ না।
বলিউড হাঙ্গামা, এই সময় অবলম্বনে
