দেশে ৪০ হাজারের বেশি সোনার দোকান থাকলেও মূসক নিবন্ধনের আওতায় আছে মাত্র ৮ হাজার প্রতিষ্ঠান। একইভাবে দেশে চার-পাঁচ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের একই অবস্থা। তাই খাতভিত্তিক অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।
Visit newsbetsport.bond for more information.
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো কর-মূসক দিয়ে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। তাই এটাকে তারা ‘জুলুম কর’ আখ্যা দিয়ে এ ক্ষেত্রে সমতার দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনে বাধ্য করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনের এনবিআর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বিকেলের অধিবেশনে নয়টি ব্যবসায়িক সমিতি তাদের বাজেটের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সমিতিগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএইচএ), বাংলাদেশ হোটেল–রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস, সুইটস ম্যানুফ্যাকচারার্স সমিতি, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স সমিতি, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ সমিতি, অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিস সমিতি, বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স সমিতি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাজুসের পরিচালক ফাহাদ কামাল বলেন, সারা দেশে ৪০ হাজারের বেশি সোনার দোকান রয়েছে; কিন্তু মূসক নিবন্ধন রয়েছে মাত্র আট হাজারের। নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ানো গেলে মূসক আদায় বাড়ানো যাবে। তবে ভ্যাটের হার কমাতে হবে।
অনেক প্রতিষ্ঠান মূসক না দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে বলে জানান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জহুরুল আলম। তাই যারা মূসক দিচ্ছে, তারা প্রতিযোগিতা করতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের প্রতি “জুলুম কর”।’
এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের একটি বড় দল দোকানে গিয়ে বিক্রি নজরদারি করবে। প্রয়োজনে তারা ছয় মাস সেখানে থেকে শতভাগ বিক্রির একটা ধারণা নেবে। সেই আলোকে আশপাশের দোকানে মূসক নির্ধারিত হবে।’
সভায় বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারিং সমিতির পক্ষ থেকে পানির বোতলের দাম ১৫ টাকা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটি বিজ্ঞাপন ব্যয় বার্ষিক টার্নওভারের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করারও প্রস্তাব দেয়।
প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমাদের সংগঠনের সদস্য ৩ হাজার ৬০০ প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে চার থেকে পাঁচ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক আছে নিবন্ধন ছাড়া।
প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মেডিকেল যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।
রাজধানীতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
দেশের বেশির ভাগ মিষ্টির দোকান নিবন্ধনের আওতায় নেই বলে জানান বাংলাদেশ সুইটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল মালেক।
মদের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মদের আমদানি কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০–৮০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খালেদ উর রহমান।
এ ছাড়া বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোতে নিয়ে আসার দাবি জানায় অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
