হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ দিনে এক হাসপাতালেই ভর্তি ১ হাজার ৭৫৬ রোগী, মৃত্যু ১০

· Prothom Alo

রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে শুধু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুধু সর্বশেষ ১৫ দিনেই (১–১৫ জুন) হাম উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৫৬ জন রোগী। এই সময়ের মধ্যে হামে মারা গেছে ১০ জন। তাদের সবাই শিশু, বেশির ভাগরেই বয়স দুই বছরের নিচে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে পাঁচ বছরের ওপরে রোগীর সংখ্যা ৬০৮।

আজ মঙ্গলবার ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের অ্যাডমিন অফিসার আসিফ হায়দার প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Visit sports24.club for more information.

ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে গত ১৫ দিনে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১০২ জনের হাম পজিটিভ আসে। হাম নেগেটিভ আসে ৩৫ জনের। আর এখনো রিপোর্ট দেওয়া হয়নি ৪৩ জনের।

এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৪৫ জন। তাদের মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইউসিউ) রয়েছে ৫৫ জন।

আজ দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে রোগী আসছে। হাসপাতালের বারান্দায় দুই ছেলেকে সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় মা মিতু আক্তারকে। তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ মুরসালিনের (৬) শরীরে জ্বরের মধ্যে র‍্যাশ দেখা দিয়েছে। তাই ছেলেকে নিয়ে স্বামী মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসেন এই হাসপাতালে। বড় ছেলেকে ভর্তি করতে আনলেও ছোট ছেলে মোহাম্মদ মুত্তাকিনকে (৩) নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি।

মিতু আক্তার বলেন, ‘ছোট ছেলে তো আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ; কিন্তু তাকে নিয়ে অনেক ভয় করে। এখানে তো সবাই হামে আক্রান্ত। এখন তারও যদি হাম হয়, পরে কী করব! ও সারা দিন দৌড়াদৌড়ি করে; ধরে রাখা যায় না। এই যে ওর বাবা একটু বাইরে গেছে, এখন ওদের আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।’

বাসায় রেখে আসার মতো কেউ থাকলে, ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ছোট ছেলেকে রেখে আসতেন বলে জানান মিতু আক্তার। তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বড় ছেলে মুরসালিনের জ্বর। এরপর গতকাল সোমবার থেকে শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে আজ তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বাসায় আর কেউ না থাকায় ছোট ছেলেকও সঙ্গে নিয়ে আসেন।

র‍্যাশে পুরো শরীর একরকম আচ্ছাদিত তিন বছরের শিশু মরিয়ামের। তাকে ভর্তির জন্য ১৫ মিনিটের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মা লাভলী আক্তার। নারায়ণগঞ্জ থেকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তিনি। সঙ্গে বড় মেয়ে ইস্মিতা আক্তার (১০)।

লাভলী আক্তার বলেন, কয়েক দিন ধরে শিশু মরিয়ামের জ্বর ও ডায়ারিয়া। এ জন্য স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাইয়েছিলেন। দুই দিন আগে থেকে হঠাৎ শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গেলে হাম বলে জনালে আজ এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একজন চিকিৎসক মারিয়ামকে দেখে ভর্তি করানোর কথা বলেছেন।

Read full story at source