২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সেবা খাতের প্রসারে বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে একাধিক উদ্যোগ প্রস্তাব করেন তিনি। বাজেটে অভিবাসন, পরিবহন ও সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনে কর ও ভ্যাট ছাড়ের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টাও রয়েছে।
সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবহার করলে ব্যবসা শুরু ও বিনিয়োগের সব অনুমোদন এখন থেকে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
Visit afsport.lat for more information.
যাত্রীসেবা উন্নত করতে বাজেটে বাসরুট যৌক্তিকীকরণ, বৈদ্যুতিক বাস চালু, দক্ষ চালক তৈরি, সমন্বিত টিকিট ব্যবস্থা এবং মেট্রোরেলভিত্তিক পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গণপরিবহনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের গাড়ি ভাড়ায় ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকেরা ট্রেনে বিনা মূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। ফলে প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াতে খরচ কমবে। তাঁদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্বস্তিকর হবে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, একক আইডি, যার মাধ্যমে সব সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা যাবে। অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা, ফি পরিশোধ, নিবন্ধন ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা যাবে। এতে সেবা গ্রহণের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশগামী ও কর্মরত প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের জন্য নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ, বিল পরিশোধ ও সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্ট গ্রিড, আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে করদাতাদের ভোগান্তি কমাতে আয়কর ও ভ্যাট নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বয়ংক্রিয় করার পদক্ষেপ রয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরীক্ষার জন্য করদাতা নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইনে কর সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী মায়েরা যাতে সন্তান পরিচর্যার নিশ্চয়তা পেয়ে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নতুন ডে-কেয়ার সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০টি এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৬০টি আধুনিক ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা হবে।
উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন সহজ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বা কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
