সেদিন দ্য বিটলসকে দেখতে রাস্তায় নেমে এসেছিল পুরো অ্যাডিলেড শহর

· Prothom Alo

১৯৬৪ সালের ১২ জুন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ‘দ্য বিটলস’। অ্যাডিলেডে পৌঁছাতেই শহরজুড়ে শুরু হয় ভক্তদের উন্মাদনা। তখন বিশ্বজুড়ে ‘বিটলম্যানিয়া’র ঢেউ চলছিল। ব্যান্ডটির চার সদস্যকে একঝলক দেখার জন্য অ্যাডিলেডে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অ্যানজ্যাক হাইওয়ের দুই পাশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে তৈরি হয়েছিল জনস্রোত।

ব্যান্ডটির চার সদস্যকে একঝলক দেখার জন্য অ্যাডিলেডে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল

চার্টার্ড এএনএ জেটে দ্য বিটলস-এর অবতরণের সেই মুহূর্ত শুধু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগমই নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো স্থানে ব্যান্ডটির সবচেয়ে বড় অভ্যর্থনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তখন শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

অ্যাডিলেডকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয় রেডিও উপস্থাপক বব ফ্রান্সিস মানতে পারেননি। তৎকালীন রেডিওর তরুণ ডিজে ফ্রান্সিস দ্য বিটলস ম্যানেজমেন্টকে রাজি করাতে ৩ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয় সেই সময়ের দুই পরিচিত সংগীত ব্যক্তিত্ব রন ট্রেমেইন এবং কিম বনিথনের সমর্থন।

বিটলসকে ঘিরে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি অ্যাডিলেড

ট্রেমেইন এই আবেদন পৌঁছে দেন ট্যুর আয়োজক কেন ব্রডজিয়াকের কাছে। মেলবোর্নভিত্তিক এই প্রোমোটার কিছু খালি তারিখ থাকলেও অ্যাডিলেডের তুলনামূলক ছোট ভেন্যুর কারণে প্রথমে আগ্রহী ছিলেন না।

পরবর্তী সময়ে ট্রেমেইনের উদ্যোগ এবং জন মার্টিনস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পারিবারিক সংযোগের সহায়তায় একটি চুক্তি হয়। এরপরই ওয়েভিল শোগ্রাউন্ডসের সেন্টেনিয়াল হলে দ্য বিটলসের চারটি কনসার্টের ব্যবস্থা করা হয়। ১২ ও ১৩ জুন দুটি করে মোট চারটি শো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১২ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

তখন বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো অস্ট্রেলিয়াতেও তুঙ্গে ছিল দ্য বিটলসের জনপ্রিয়তা। ১৯৬৪ সালের মে ও জুন মাসে টানা ছয় সপ্তাহ অস্ট্রেলিয়ার চার্টে ১ নম্বরে ছিল তাদের গান ‘ক্যান্ট বাই মি লাভ’। আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘অল মাই লাভিং’ আগেই চার্টের শীর্ষে পৌঁছেছিল।

অ্যাডিলেড বিমানবন্দর থেকে টাউন হল পর্যন্ত পুরো পথে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন তাঁদের একঝলক দেখার আশায়। ভক্তদের চিৎকারে পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশকে বাধ্য হয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে জনস্রোত সামলাতে হয়।
অ্যাডিলেড তখন ছিল তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল শহর, কিন্তু বিটলসকে ঘিরে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি তারা। টাউন হলে গাড়ির চারপাশে জনতা ভেঙে পড়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কঠোর হতে হয়।

‘দ্য বিটলস’ কে দেখতে অ্যানজ্যাক হাইওয়ের দুই পাশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে তৈরি হয়েছিল জনস্রোত

এই সফরে ড্রামার রিঙ্গো স্টার অসুস্থ থাকায় তিনি লন্ডনে থেকে যান। তার পরিবর্তে সাময়িকভাবে ড্রাম বাজান জিমি নিকল। পরে তিনি মেলবোর্নে দলে আবার যোগ দেন।
অ্যাডিলেডের পর দ্য বিটলস পারফর্ম করে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, এরপর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তাদের ঐতিহাসিক সফর শেষ করে। এটি ছিল ব্যান্ডটির একমাত্র অস্ট্রেলিয়া সফর।


দ্য গার্ডিয়ান, এবিবি ডটনেট

Read full story at source