জাতীয় সংসদ নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে নিহত, গুরুতর আহত বা আহত কিংবা মারা যাওয়া বা অসুস্থ হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদান প্রদানের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
Visit lej.life for more information.
নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের হামলা বা দুর্ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হলে তার পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-১) রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘নির্বাচনে ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন–সংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ, গুরুতর অসুস্থ, আহত, গুরুতর আহত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা বা অনুদান প্রদান নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
নীতিমালার আওতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের হামলা বা দুর্ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হলে তার পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা, গুরুতর আহত হয়ে সাময়িকভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে আকস্মিকভাবে অসুস্থ বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাময়িকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা এবং সাধারণ চিকিৎসা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
মৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারের সদস্যদের অনুদান পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে। স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। একাধিক স্ত্রী থাকলে অনুদানের অর্থ সমানভাবে বণ্টন করা হবে। স্বামী বা স্ত্রী জীবিত না থাকলে অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী পুত্র বা অবিবাহিত কন্যাসন্তান আবেদন করতে পারবে।
সন্তান না থাকলে মা–বাবা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অবিবাহিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে মা–বাবা অথবা ভাই-বোন আবেদন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবাহিত কন্যাকেও আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের জন্য দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা অফিসপ্রধানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব বরাবর পাঠাতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত আবেদনপত্র, আবেদনকারীর ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, চিকিৎসা–সংক্রান্ত সনদ বা হাসপাতালের ভর্তি–সংক্রান্ত প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন উপসচিব (মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কল্যাণ), উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-১), সিনিয়র সহকারী সচিব (জনবল ব্যবস্থাপনা-৩) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট ও অর্থ)।
কমিটি প্রতি অর্থবছরে অন্তত দুবার আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করবে এবং অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পরে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা বা অনুদান প্রদান করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
