একজন পথপ্রদর্শক কবি কেন মৃত্যুকে বেছে নিলেন

· Prothom Alo

সুইডেনের অন্যতম নারী লেখক কারিন বোয়ে ছিলেন একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও রাজনৈতিক কর্মী। সুইডেনের ‘পথপ্রদর্শক কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তাঁর ডিস্টোপিয়ান বিজ্ঞানভিত্তিক উপন্যাস কালোকেইন-এর জন্য।

Visit palladian.co.za for more information.

লেখিকা হিসেবে কারিন বোয়ের যথেষ্ট সুনাম থাকলেও ব্যক্তিজীবনে মানসিক বিষণ্নতা ও জটিল সম্পর্কের কারণে তিনি ছিলেন অসুখী ও হতাশাগ্রস্ত, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। তিনি ৪০ বছর বয়সে ১৯৪১ সালে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মরদেহ পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল এক পাথরের পাশে পাওয়া যায়।

বোয়ের জীবন ও সাহিত্য

কারিন বোয়ে (পুরো নাম কারিন মারিয়া বোয়ে) ১৯০০ সালের ২৬ অক্টোবর সুইডেনের গোতেনবার্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। অন্যদিকে তাঁর মা ছিলেন সুইডিশ। ৯ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে স্টকহোমে চলে যান। তিনি এমন এক শিক্ষিত ও উদার পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যে পরিবার তাঁকে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ও শিক্ষায় আগ্রহী করেছিল। শৈশবেই তিনি ধর্ম ও দর্শনের মতো বিষয়গুলোর প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান। তিনি উপসালা ইউনিভার্সিটিতে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন, যা পরবর্তীকালে তাঁর সাহিত্য রচনায়, বিশেষ করে মানুষের আবেগ ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের ক্ষেত্রগুলো চিত্রায়িত করতে সাহায্য করেছিল।

উপসালায় থাকাকালে কারিন বোয়ে চরম বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে যান। ১৯৩০ সালে তিনি সেই দলের একজন সদস্য লেইফ বিয়র্ককে বিয়ে করেন। তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। দুই বছর পরই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তারপর তিনি গুনেল বার্গস্ট্রোমের সঙ্গে সমলিঙ্গের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গুনেল ছিলেন বোয়ের সহকর্মী কবি গুণার একেলফের স্ত্রী। এ ছাড়া জীবনের শেষ ১০ বছর তিনি জার্মান ইহুদি মারগোট হ্যানেলের সঙ্গে থাকতেন এবং তিনি মারগোটকে তাঁর ‘স্ত্রী’ বলে সম্বোধন করতেন। তিনি অল্প সময়ের জন্য (১৯৩৬-১৯৩৮) স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে আগে থেকেই তাঁর মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা ছিল। তিনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তৃতীয়বার সেই প্রচেষ্টা প্রাণঘাতী হয়।

কারিন বোয়ে ১৯৪১ সালের ২৪ এপ্রিল ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁকে গোতেনবার্গের অসত্রা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

কারিন বোয়ে
বোয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস কালোকেইন-এর জন্য, যা সুইডিশ ভাষায় এবং একই শিরোনামে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে তিনি ভবিষ্যতের এক অসহনীয় শক্তিশালী সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনি তুলে ধরেন। সমালোচকেরা নীতিকথামূলক ঘরানার কাজ হিসেবে এটির প্রশংসা করেন, এমনকি অ্যালডাস হাক্সলির ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড ও জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের সমপর্যায়ের মনে করেন।

বোয়ের লেখালেখির হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। তাঁর প্রাথমিক জীবনের অভিজ্ঞতা, যার মধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধও রয়েছে, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, যা তাঁকে সাহিত্যচর্চা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানব অবস্থা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করে। এ ছাড়া নারীবাদী বিশ্বাস তাঁর বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ পেয়েছে। সেসব লেখায় তিনি নারীদের ভূমিকা ও সামাজিক প্রত্যাশা অনুসন্ধান করেন। তিনি সুইডিশ সাহিত্যে মনোসমীক্ষামূলক ধারণাও প্রবর্তন করেছিলেন।

সুইডেনে বোয়ে মূলত একজন আধুনিকতাবাদী কবি হিসেবে প্রশংসা লাভ করেন। তাঁর কবিতায় রয়েছে আবেগপূর্ণ গভীরতা, দার্শনিক অনুসন্ধান ও অস্তিত্বমূলক বিভিন্ন বিষয়। সেসব কবিতায় প্রায়ই উঠে আসে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক দমন ও মানব পরিস্থিতি। তাঁর কবিতা মোটেও জটিল কিছু নিয়ে নয়, বরং কীভাবে জীবন যাপন করতে হয় এবং কেমনভাবে বাঁচা উচিত, তা–ই নিয়ে রচিত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ মলন (১৯২২; ক্লাউডস)। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত দ্য সেভেন ডেডলি সিনস (১৯৪১), যা জীবন, মৃত্যু ও ধ্বংস–সম্পর্কিত। কাব্যগ্রন্থটিকে তাঁর সেরা কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বোয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস কালোকেইন-এর জন্য, যা সুইডিশ ভাষায় এবং একই শিরোনামে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে তিনি ভবিষ্যতের এক অসহনীয় শক্তিশালী সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনি তুলে ধরেন। সমালোচকেরা নীতিকথামূলক ঘরানার কাজ হিসেবে এটির প্রশংসা করেন, এমনকি অ্যালডাস হাক্সলির ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড ও জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের সমপর্যায়ের মনে করেন। কালোকেইন উপন্যাসটি বিশ্বের পাঁচ শতাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই উপন্যাসের কাহিনি নিয়ে ১৯৮১ সালে সুইডেনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

বোয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ক্রিস ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি নিজের ধর্মীয় সংকট ও সমকামিতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত অস্তার্টে উপন্যাসে মূলত সামাজিক বিদ্রুপের মাধ্যমে বুর্জোয়া সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। উপন্যাসটি নর্ডিক পুরস্কার জিতেছিল। তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস মেরিট অ্যাওয়াকেন্স (১৯৩৩) ও টু লিটল (১৯৩৬)।

কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস ছাড়া কারিন বোয়ের কয়েকটি ছোটগল্পের সংকলন রয়েছে, যেমন সেটেলমেন্টস (১৯৩৪), আউট অব অর্ডার (১৯৪০) ও অ্যানাউন্সমেন্ট (১৯৪১)। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন, যার মধ্যে ‘বেলম্যান পুরস্কার’ অন্যতম। এ ছাড়া অনুবাদক হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তিনি ইংরেজি থেকে সুইডিশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন টি এস এলিয়টের দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড এবং থমাস মানের দ্য ম্যাজিক মাউন্টেইন

কারিন বোয়ের উপন্যাস ‘কালোকেইন’-এর প্রচ্ছদ
এ কথা সত্যি যে কারিন বোয়ে ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন, যার মধ্যে বিষণ্নতা এবং জটিল সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক মৃত্যু কী পরিকল্পিত আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য জড়িত ছিল।

কবে কোথায় কীভাবে মৃত্যু

সেদিন ছিল বুধবার, ১৯৪১ সালের ২৩ এপ্রিল। দিনের কোনো এক সময় বোয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে ছিল পর্যাপ্তসংখ্যক ঘুমের বড়ি।

গোতেনবার্গ আঞ্চলিক আর্কাইভে সংরক্ষিত পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৪১ সালের ২৫ এপ্রিল কারিন বোয়েকে স্থানীয় এক পাহাড়ের পাথরের পাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি আগের দিন (২৪ এপ্রিল) মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই পাথরের কাছে তাঁর স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।

আত্মহত্যার কারণ

কারিন বোয়ের জীবন ছিল বিষণ্নতায় ভরা। তাঁর লিঙ্গপরিচয় নিয়ে লড়াই জটিল সম্পর্ক ও সামাজিক চাপের কারণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছু ব্যর্থ প্রেমের ঘটনা ঘটে। তিনি ১৯৪১ সালে জার্মান অভিবাসী মারগো হ্যনেল এবং মরণশয্যায় থাকা অ্যানিতা নাথরস্টকে নিয়ে সমকামী ত্রিভুজ প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে প্রায়ই ঘর ছেড়ে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির কাছে চলে যেতেন।

এ কথা সত্যি যে কারিন বোয়ে ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন, যার মধ্যে বিষণ্নতা এবং জটিল সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক মৃত্যু কী পরিকল্পিত আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য জড়িত ছিল।

কারিন বোয়ের মৃত্যুর পর তাঁর সমকামী বান্ধবী অ্যানিতা বলেছিলেন, কারিন আগেও দুবার আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ১৯৩৬ সালে প্রথমবার স্টকহোমে বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসে টেনে নিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডারের ভালভ খোলা ছিল, তাই সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এরপর তিনি ১৯৪০ সালে প্যাকেটে ভরে ঘুমের ওষুধ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অ্যানিতা তাঁকে বারান্দায় ধরে ফেলেন। এ সময় কারিন স্বীকার করেন যে তিনি ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহনন করতে যাচ্ছিলেন। অ্যানিতা তাঁকে বুঝিয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করেন যে তিনি আর কখনও আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন না। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি। সুইসাইড নোটে তিনি নিজের যৌনতার কারণে গভীর মানসিক হতাশা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর দুঃস্বপ্নের মতো ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া যে দমনমূলক সমাজটি তিনি তাঁর কালোকেইন উপন্যাসে কল্পনা করেছিলেন, সেই কথাও লেখেন।

মৃত্যুর পর কারিন বোয়ের জীবনী নিয়ে দেশ-বিদেশের অনেক গবেষক অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়মিত নতুন সুইডিশ সংস্করণে ও অন্যান্য ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে। বোয়ের সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের অনেক সুইডিশ কবি ও লেখকের কাছে প্রেরণা। তাঁর কবিতার গভীর প্রভাব স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর অনেক কবি, যেমন ইঙ্গার হাগারুপ, হ্যারি মার্টিনসন ও হজালমার গুলবার্গের কবিতায় স্পষ্ট দেখা যায়।

বোয়ের মৃত্যুতে অন্যদের অনুভূতি ও মন্তব্য

কারিন বোয়ের আত্মহত্যার পর তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্নভাবে অন্যদের প্রভাবিত করে। তাই তাঁর আত্মহত্যার পর প্রতিক্রিয়াগুলো ছিল মর্মস্পর্শী।

সুইডিশ সাহিত্য সমালোচক, গবেষক, লেখক, অনুবাদক, প্রবন্ধকার ও জীবনী লেখিকা মার্গারেটা উলরিকা আফেনিয়াস বোয়ের জীবনীগ্রন্থে (স্টিকেন উইথ পিউরিটি, ১৯৫০ সালে প্রকাশিত) বোয়েকে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ এবং ‘মৃত্যুর প্রতি নিবেদিত’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। মার্গারেটা বোয়েকে এমন একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যিনি সারা জীবন নিজের মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণভাবে সংগ্রাম করেছেন।

সুইডেনের বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি হ্যাজলমার গুলবার্গের ‘ডেড অ্যামাজন’ কবিতায় ট্র্যাজিক বীরত্বের ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে কবি গুলবার্গ প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টান বীরদের সঙ্গে বোয়েকে তুলনা করে বলেছেন, ‘খুবই অন্ধকার এবং বড় চোখের অধিকারিণী’।

অন্যদিকে বোয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সুইডিশ কবি, নাট্যকার ও অনুবাদক এবে লিন্ডে (১৮৯৭-১৯৯১) ‘ডেড ফ্রেন্ড’ শিরোনামের একটি কবিতা লিখেছেন, যেখানে কারিন বোয়েকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—মৃত্যুর সময় ছোট ও ধূসর, যুদ্ধে ও ব্যথায় মুক্ত।

উল্লেখ্য, কবিতা দুটি কারিন বোয়ের মৃত্যুকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে, ‘ডেড অ্যামাজন’ কবিতায় জোর দেওয়া হয়েছে তাঁর শক্তির ওপর এবং ‘ডেড ফ্রেন্ড’ কবিতায় তাঁর ভঙ্গুরত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।

বোয়ের উত্তরাধিকার

কারিন বোয়ের আত্মহত্যার কাহিনি গবেষণার বিষয় হয়ে এসেছে, যেখানে তাঁর জীবনের জটিলতা ও সাহিত্যকর্মের প্রভাবকে তুলে ধরা হয়। কেননা তাঁর উত্তরাধিকার (লিগ্যাসি) সাহিত্যিক অর্জনের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সুইডেনে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আলাপ-আলোচনায় তাঁর সাহিত্যকর্মের অবদান তাঁকে সমতা ও ন্যায়ের প্রতীক করে তুলেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও তাঁর সাহিত্যকর্ম বিশ্বব্যাপী পাঠক ও চিন্তাবিদদের অনুপ্রাণিত করছে। এ ছাড়া তাঁর সাহিত্যকর্ম এখনো অধ্যয়ন, আলোচনা ও প্রশংসিত হচ্ছে।

মৃত্যুর পর কারিন বোয়ের জীবনী নিয়ে দেশ-বিদেশের অনেক গবেষক অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়মিত নতুন সুইডিশ সংস্করণে ও অন্যান্য ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে।

বোয়ের সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের অনেক সুইডিশ কবি ও লেখকের কাছে প্রেরণা। তাঁর কবিতার গভীর প্রভাব স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর অনেক কবি, যেমন ইঙ্গার হাগারুপ, হ্যারি মার্টিনসন ও হজালমার গুলবার্গের কবিতায় স্পষ্ট দেখা যায়।

বোয়ের সম্মানে ২০০৪ সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির একটি শাখার নামকরণ করা হয় ‘কারিন বোয়ে লাইব্রেরি’। তাঁর সাহিত্যকর্মকে জীবন্ত রাখতে এবং নতুন পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাহিত্য সংস্থা ‘দ্য ক্যারিন বোয়ে সোসাইটি’। বোয়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সুইডেনে ‘ক্যারিন বোয়ে সাহিত্য পুরস্কার’ চালু করা হয়েছে।

Read full story at source