লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ক্যাপ্টেনসহ নিহত ১২

· Prothom Alo

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে হামলা চালাল ইসরায়েল।

Visit albergomalica.it for more information.

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় তাদের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন ও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের খারদালি–নাবাতিয়েহ সড়কে একটি সামরিক যানে হামলা হলে তাঁরা নিহত হন।

লেবাননে ৯০০ বছরের পুরোনো কৌশলগত দুর্গ দখল করে নিল ইসরায়েলি বাহিনী

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চলাচলের জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের ইচ্ছাকৃত, বারবার চালানো এমন নৃশংস আগ্রাসনের ধারাবাহিকতার লক্ষ্য হলো কোনো সমাধানে পৌঁছানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া।

হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এ হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন–রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম একে তাঁর দেশ, দেশের সব জনগণের ওপর হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি জঘন্য অপরাধ।

এক বিবৃতিতে নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খুরি ও সেনাসদস্য হুসেইন ঘোজালের শোকসন্তপ্ত পরিবার–সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতিও সমবেদনা জানান।

গতকাল লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের কমান্ডার জেনারেল রুডল্ফ হায়কাল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

হায়কালের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই আলোচনায় লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

শনিবারের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। একই সঙ্গে তারা লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে ‘ওয়াশিংটনে শত্রুর দাবির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশকে রক্তপাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে লেবানন, দেশটির সেনাবাহিনী ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ এবং আগ্রাসনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায় না ইসরায়েল।

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোও। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতার।

ইসরায়েল-লেবানন শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত

Read full story at source