ইজারাদারের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাটের জায়গায় বৃক্ষরোপণ

· Prothom Alo

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন খোলা জায়গায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসেছিল। তবে হাট এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় গরমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই সঙ্গে হাট পরিচালনার কারণে আশপাশের পরিবেশেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।

Visit sportbet.reviews for more information.

এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে হাটের জায়গা ও আশপাশের সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন হাটটির ইজারাদার আমিনুল ইসলাম। আজ সোমবার দুপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম বলেন, হাটের ইজারাদার, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে হাট এলাকার সব বর্জ্য ও অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। পরে ব্লিচিং পাউডার ও পানি ব্যবহার করে মাঠ ও আশপাশের সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার লক্ষ্যেই সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, শুধু এই মাঠ নয়, শিল্পাঞ্চল থানার আওতাধীন বিভিন্ন খালি জায়গায়ও পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এটি নগরকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার প্রচেষ্টার অংশ।

ঈদ-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। শুধু পশুর হাট নয়, নগরের অন্যান্য স্থানেও নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করা হচ্ছে।

মেট্রোরেলের উত্তরা সেন্টার স্টেশন-সংলগ্ন এলাকার সবুজায়ন প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলোর পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় আরও সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশন সম্পর্কে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, ঈদের ছুটির কারণে কয়েকজন ইজারাদার হাটের স্থাপনা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত এক-দুই দিন সময় চেয়েছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁদের জামানত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের বিষয়ে ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, পশুর হাট বসার কারণে এলাকাটির পরিবেশ কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই প্রভাব কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাট চলাকালে তীব্র গরমে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি চোখে পড়েছে। ভবিষ্যতে মানুষ যাতে কিছুটা ছায়া ও স্বস্তি পায়, সে চিন্তা থেকেই নিমগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাটের চারপাশ ও আশপাশের সড়ক বিভাজকে পাঁচ হাজার নিমগাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীকালে আরও গাছ লাগানো হবে।

Read full story at source