চিড়িয়াখানার লেকে ২৫–৩০ কেজি ওজনের মাছও আছে, কীভাবে ধরবেন

· Prothom Alo

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় শুধু যে বাঘ, হাতি, ময়ূরসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি দেখা যায়, তা–ই নয়। এই চিড়িয়াখানার দুটি বড় লেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগও আছে।

Visit rhodia.club for more information.

জাতীয় চিড়িয়াখানার দক্ষিণ লেকের আয়তন ৩২ একর। আর উত্তর লেকের আয়তন ২৪ একর। মৎস্য অধিদপ্তর প্রতিবছর এই দুই লেকে মাছ অবমুক্ত করে। প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হয় সেই মাছ। সাধারণত সেই মাছ জাল দিয়ে ধরা হয় না। তবে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ রেখেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সেদিন যে কেউ বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এক টিকিটে দুটি বড়শি নিয়ে মাছ ধরা যায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, পাঙাশ, গজার, তেলাপিয়াসহ নানা জাতের মাছ পাওয়া যায় এই দুই লেকে। কখনো কখনো ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছও ধরা পড়ে বড়শিতে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি মাসের (ইংরেজি মাস) প্রথম শুক্রবার ভোরে চিড়িয়াখানার মূল ফটকে থাকেন তাঁদের লোক। ফটকে এসে যদি কেউ বলেন তিনি মাছ ধরবেন, তাঁকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়। যাঁরা মাছ ধরতে আসেন, তাঁরা সাধারণত সকাল সাত থেকে আটটার মধ্যে চলে আসেন। তাঁদের লোক সকাল আটটা পর্যন্ত ফটকে থাকেন। কেউ পরে আসলে ফটকে যোগাযোগ করলে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

এই দুই লেকে মাছ ছাড়ার জন্য টাকা নেয় না মৎস্য অধিদপ্তর। বিভিন্ন জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করার অংশ হিসেবে এই দুই লেকে মাছ ছাড়ে তারা।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, একেক মাসে একেক রকম মাছশিকারি আসেন। কোনো কোনো মাসে ৭০ থেকে ৭৫ জন মাছশিকারি এই দুই লেকে মাছ ধরেন। প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জন মাছ ধরেন।

এটি জাতীয় চিড়িয়াখানার আয়ের একটি উৎস বলেও উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কেউ হয়তো সারা দিনে একটি মাছও পান না। আবার কেউ হয়তো অনেক পেয়ে যান।

১৯৯০ সালে শুরু হয় বড়শি দিয়ে মাছ ধরা

জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই চিড়িয়াখানার আয়তন ১৮৬ দশমিক ৬৩ একর। পঞ্চাশের দশকে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে চিত্রা হরিণ, হাতি, বানরসহ কয়েকটি প্রজাতির বন্য প্রাণী নিয়ে চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৬০ সালে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার জন্য মহাপরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। প্রাণীদের বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির পর হাইকোর্টসংলগ্ন চিড়িয়াখানা থেকে বন্য প্রাণী স্থানান্তর করে মিরপুরে আনা হয়। একপর্যায়ে ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন জনসাধারণের জন্য চিড়িয়াখানাটি উন্মুক্ত করা হয়।

এই চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুটি লেক খনন শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। খননকাজ শেষ হয় ১৯৮০ সালে। খননের পর লেকে মাছ ছাড়া হয়। তখন জাল দিয়ে বছরে একবার করে মাছ ধরা হতো। পরে ১৯৯০ সালে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তখন মাসে চারবার মাছ ধরা যেত। পরবর্তী সময় প্রাণীদের কথা বিবেচনায় রেখে মাসে একবার করার সিদ্ধান্ত হয়।

সর্বশেষ ২০২২ সালে এই দুই লেকে জাল দিয়ে মাছ ধরেছিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে আতিকুর রহমান বলেন, সেই মাছ ধরার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তারপর আর জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়নি। আবার হয়তো জাল দিয়ে ধরা হবে।

কারণ হিসেবে আতিকুর রহমান বলেন, বড় মাছ থাকলে ছোট মাছ বাড়ে না। ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছও ধরা পড়ে। ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের মাছ কমন (সচরাচর ধরা পড়ে)। তবে জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

Read full story at source