জঙ্গল সলিমপুরে তিন সড়ক পাকা করতে ১৬ কোটি টাকা চায় জেলা প্রশাসন

· Prothom Alo

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করতে জরুরি ভিত্তিতে ১৬ কোটি টাকা চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দিয়ে তিনটি সড়ক পাকা করতে জেলা প্রশাসন গত ২ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

Visit bettingx.bond for more information.

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বলছে, ৩ হাজার ১০০ একরের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও নজরদারি কার্যক্রমে গতি আনতে তিনটি সড়ক জরুরি ভিত্তিতে পাকা করা দরকার। সে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদকে এ টাকা বরাদ্দ দিয়ে অর্পিত ক্রয়কাজ (ডিপিএম) পদ্ধতিতে তিনটি সড়ক বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেকোনো পণ্য, কাজ বা সেবার জন্য কোনো মন্ত্রণালয়, সংস্থা, বিভাগের সামর্থ্য না থাকলে এ–সংক্রান্ত কাজে পারদর্শী কোনো সংস্থাকে দিয়ে কাজটি করালে তাকে অর্পিত ক্রয় কাজ বলে। এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞতা থাকায় তিনটি সড়ক ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দিয়ে করাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর মূলত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এলাকাটি নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ছিল। তখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে গেলে নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত সন্ত্রাসীরা।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‍্যাবের একটি দল অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলি চালায়। এতে র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আরও তিনজন আহত হন। এরপর গত ৯ মার্চ ভোর ছয়টা থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জায়গাটি দখলমুক্ত করে। অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে কয়েকটি স্থানে রাস্তা কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা। গতকাল রোববার গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘটেছে এ ঘটনা। আজ সকালে তোলা

এর মধ্যে গতকাল রোববার গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় অতর্কিতে এসে গুলি ছোড়া হয়েছে র‍্যাবের ক্যাম্পে (চৌকি)। এরপর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে তিনটি সড়ক পাকা করার যুক্তি তুলে ধরেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চিঠিতে বলা হয়েছে, যোগাযোগ অবকাঠামো না থাকায় এবং এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় স্থাপিত ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, রসদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করতে তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা দরকার।

গভীর রাতে বুলডোজার দিয়ে র‍্যাব ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা, কেটে দেওয়া হলো রাস্তা

জেলা প্রশাসন বলছে, তিনটি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য সোয়া ছয় কিলোমিটার। প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনটি সড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হলো বায়েজিদ লিংক রোড থেকে কালা পানিয়া বেতুয়া সড়ক হয়ে হাটহাজারী বাজার লিংক সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নকাজ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া জলিল টেক্সটাইল থেকে আলীনগর প্রাইমারি অ্যান্ড হাইস্কুল সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ছিন্নমূল বিদ্যুৎ অফিস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এম আর চৌধুরী ফায়ারিং রেঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি সড়ক পাকা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে।

Read full story at source