নালিতাবাড়ীতে ঝড়ে ৫০ গ্রাম ২৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন

· Prothom Alo

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় কালবৈশাখীতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ায় উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক।

গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও, নন্নী, রাজনগর ও নয়াবিল ইউনিয়ন এবং পাশের কাংশা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এতে অন্তত ৫০টি কাঁচা ও টিনশেড ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে। অনেক স্থানে খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে যায়।

Visit milkshakeslot.lat for more information.

শেরপুর জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। আরও ৭টি খুঁটি উপড়ে গেছে। ট্রান্সফরমারসহ ৭টি খুঁটি মাটিতে পড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ মিটার সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে পল্লী বিদ্যুতের বিতরণব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুঠোফোনে চার্জ দিতে পারছেন না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় মোটর চালাতে না পারায় বাসাবাড়িতে পানি তোলা যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

নন্নী ইউনিয়নের আমবাগান গ্রামের গৃহিণী আকিজা বেগম বলেন, ‘রাইস কুকারে ভাত রান্না করি। কিন্তু গতকাল থাইকা কারেন্ট নাই। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হইতাছে। ফোনে চার্জ দেওয়ারও উপায় নাই। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতাছি না।’ পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বারোমারী বাজারের ব্যবসায়ী আফসার উদ্দিন বলেন, ‘ঝড়ের পর থেইকা দোকানে বিদ্যুৎ নাই। ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হওয়ার অবস্থা। শুনছি অনেক স্থানে খুঁটি ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎ দিতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নন্নী কার্যালয়ের লাইনম্যান আজিজুল হক বলেন, গতকাল সকালের ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইন মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ৬০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে গতকাল রাতে কয়েকটি এলাকায় ২০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও ৫০টি গ্রামের ৪০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো বন্ধ আছে।

নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবদুল্লাহ বলেন, ঝড়ে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তারসহ খুঁটি মাটিতে পড়ে গেছে। গতকাল থেকে মেরামতের জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কাজ করছে। কিন্তু নন্নী ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম এখনো বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুতের ওপরই এখন সবকিছুর জন্য নির্ভর করতে হয়। এতে মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের নালিতাবাড়ী জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। গতকাল দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেও মেরামতকাজ চলছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে।’

Read full story at source