অব্যবস্থাপনায় চামড়াশিল্প কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

· Prothom Alo

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে বিগত দিনে দেশের সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্প খাতের প্রতি যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে বা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে যে অব্যবস্থাপনা ছিল, সেই কারণে চামড়াশিল্প তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার সাভারের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বিসিক চামড়াশিল্প নগরের কনফারেন্স কক্ষে বিভিন্ন ট্যানারির মালিকসহ চামড়াশিল্প খাত–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

Visit freshyourfeel.org for more information.

সভায় মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।

এর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) ঘুরে দেখেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত ছিল ও এখনো আছে। যে পরিমাণ চামড়া বাংলাদেশে আহরিত হয়, সারা বছরে যদি তার পুরোটা আমরা রপ্তানি খাতে নিতে পারতাম, তাহলে এই খাত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি রপ্তানি খাতে পরিণত হতো।’  

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, কোরবানির ঈদের পর পিক সিজনে সিইটিপিতে ৪৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু বাস্তবে এই সিইটিপির পরিশোধন হয় ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটার এবং সেটি নির্ভর করে সিইটিপিতে বর্জ্য পৌঁছানোর আগে কারখানা পর্যায়ে এর প্রি-ট্রিটমেন্টের মানের ওপর। এ সমস্যা সমাধানে আগামী দিনে সক্ষম ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব সিইটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এই সিইটিপিকে কীভাবে আরও কর্মক্ষম এবং এর ক্যাপাসিটি কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, আরও বেশি ফাংশনাল করা যায়, সে বিষয়ে একটি স্টাডি চলছে জানিয়ে আগামী দু–এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি পাওয়া যাবে। সামগ্রিকভাবে এই খাতের উন্নয়ন, স্কিল বিল্ডিং ও ডিজাইন ইমপ্রুভমেন্টের জন্য সাভারেই একটি বিশ্বমানের সেন্টার তৈরি করছি। যেখানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়ার জন্য ডিজাইনের ক্ষেত্রে থ্রিডি ডিজাইনিং এবং স্কিল বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান দ্বারা সেটি পরিচালিত হবে।’

মতবিনিময় সভা চলাকালে ট্যানারির মালিকসহ চামড়াশিল্প খাত–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ সিইটিপির ডিজাইনে ত্রুটি, যার মধ্যে সেন্ট্রাল সেডিমেন্টেশন ব্যবস্থা, টারশিয়ারি ট্রিটমেন্ট, ক্রোম রিকভারি ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি সিইটিপি নির্মাণকারী চায়নিজ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার ঘোষণা করলেও যাচাই-বাছাই করে এর সক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটার পাওয়া গেছে বলে জানান।

এ ছাড়া তিনি সিইটিপির বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্টের ফলাফল ভালো হওয়ার কথা জানালেও অন্য পদ্ধতি ঠিকভাবে ফাংশন করে না বলে জানান। সিইটিপির বিদ্যমান এই সমস্যা সমাধানে শিল্পনগরীতে বিদ্যমান ৫০ হাজার স্কয়ার ফিটের ৩১টি ট্যানারিতে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে নিজস্ব তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ইনস্টলের প্রস্তাব দেন।

সভায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ঈদ-পরবর্তী তিন মাস শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে যথাযথ উপায়ে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

Read full story at source