সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দুই মাস স্থবির থাকার পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নির্বাচিত প্রার্থীর তথ্যসংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হলেও যোগদানপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশ ভেরিফিকেশনের এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
Visit turconews.click for more information.
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুরসহ দেশের প্রায় সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই নির্বাচিত প্রার্থীদের ফাইল পুলিশ সুপারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের অগ্রগতির বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সারা দেশের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৮ এপ্রিল আমরা লালমনিরহাট জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।’
শক্তি ফাউন্ডেশনে বড় নিয়োগ, পদ ১২৩০এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। জেলার পাঁচটি উপজেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের মতো দেশের ৬১টি জেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ে সব ফাইল পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন হলেও অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে।’
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত, গণিত পরীক্ষা আবার নিচ্ছে কেমব্রিজশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস: কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না
এর আগে ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে অতি শিগগির নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না।’ তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্তের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যোগদানের পর শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে (পিটিআই) পাঠানো হবে। সেখানে প্রশিক্ষণে অকৃতকার্য হলে তাঁরা শিক্ষক হতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী দুই বছর সাফল্যের সঙ্গে চাকরি সম্পন্ন করলে তাঁদের স্থায়ী করা হবে।
শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস পার হলেও নিয়োগ না হওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন এবং ৬১ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ১৩ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন তাঁরা। প্রার্থীদের এই টানা আন্দোলনের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট
দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতীক্ষার পর এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ায় মে মাসেই নিয়োগপত্র পাওয়ার আশা করছেন প্রার্থীরা।
টিএমএসএস-এ ১৪০০ পদে চাকরি, জেনে নিন সব তথ্য