সিলেটে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিল। ছয় থেকে আট মাস বয়সী তিনটি শিশু গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে মারা যায়।
Visit afnews.co.za for more information.
মারা যাওয়া শিশুরা হলো সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার আবদুল মুমিনের আট মাস বয়সী ছেলে মাহদী হাসান, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জাকারিয়ার সাত মাস বয়সী মেয়ে শিশু জারা এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাস বয়সী ছেলে মুস্তাকিম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় মুস্তাকিম, সন্ধ্যা সাতটায় মাহদী হাসান এবং রাত ১১টায় জারা মারা যায়।
এ ঘটনায় সিলেটে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩। এর আগে গত সোমবারও এক দিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে তিনজনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। তাদের বাঁচাতে চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, কিন্তু অনেক সময় কিছুই করার থাকে না।
মাহবুবুল আলম আরও বলেন, হামের রোগী দিন দিন বাড়ছে। টিকা ছাড়া এই রোগ প্রতিরোধের কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। সরকার টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছে, কিন্তু এখনো অনেক অভিভাবকের মধ্যে অনীহা রয়েছে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ মে পর্যন্ত সারা দেশে এবং ২০ মে পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চলবে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দিতে হবে।
মাহবুবুল আলম হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক হেদায়েত হোসেন সারোয়ারের বরাত দিয়ে জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুই পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভোগে।
