বড় বড় প্রকল্প থেকে সরে আসছে সৌদি আরব, বিশ্বে এর কী প্রভাব পড়তে পারে

· Prothom Alo

গত দশকে তরুণ যুবরাজের নেতৃত্বে সৌদি আরব এক বড় ধরনের জাতীয় রূপান্তর প্রকল্প শুরু করেছিল। এর মধ্য দিয়ে যুবরাজ তাঁর দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ওই সময় সৌদি আরব ক্রীড়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ঘোষণা করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল তেল রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং দেশকে রক্ষণশীল ঘরানা থেকে বের করে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সংগতিপূর্ণ হচ্ছে না। দেশটির খরচ বেড়ে গেছে। আবার তেল থেকে তাদের আয় কমে গেছে। সৌদি আরবের অর্থনীতির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধেরও প্রভাব পড়ছে। এমন অবস্থায় বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের আকার কমানো হয়েছে। কিছু প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে, আবার কিছু সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।

Visit palladian.co.za for more information.

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল কর্তৃপক্ষ পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বলেছে, তারা বছরের শেষ দিকে একটি বড় গলফ প্রতিযোগিতায় অর্থায়ন দেওয়া বন্ধ করবে। এলআইভি গলফ নামে এ প্রতিযোগিতা মাত্র চার বছর আগে শুরু হয়েছিল। এ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল সৌদি আরব। এর মধ্য দিয়ে অনেক বড় তারকা খেলোয়াড়কে বিপুল অর্থ দিয়ে আকৃষ্ট করে প্রচলিত গলফ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিল দেশটি।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল কর্তৃপক্ষ পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বলেছে, তারা বছরের শেষ দিকে একটি বড় গলফ প্রতিযোগিতায় অর্থায়ন দেওয়া বন্ধ করবে। এলআইভি গলফ নামে এ প্রতিযোগিতা মাত্র চার বছর আগে শুরু হয়েছিল। এ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল সৌদি আরব। এর মধ্য দিয়ে অনেক বড় তারকা খেলোয়াড়কে বিপুল অর্থ দিয়ে আকৃষ্ট করে প্রচলিত গলফ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিল দেশটি।

শুরু থেকেই এ উদ্যোগকে বিশ্বের ক্রীড়াজগতে সৌদি আরবের বড় ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হতো। তবে এখন এ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রীড়া খাতে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের নতুন পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এখন তারা মূলত দেশের ভেতরের বিনিয়োগে মনোযোগ দিচ্ছে। বড় ধরনের ক্রীড়া প্রকল্পকে এবার অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া ও বিনোদন ছিল মোহাম্মদ বিন সালমানের নেওয়া বিশাল পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অংশ। তাঁর অন্যান্য লক্ষ্যের মধ্যে ছিল সৌদি আরবজুড়ে নতুন আধুনিক শহর গড়ে তোলা, অবকাশ কাটাতে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ এবং সৌদি আরবজুড়ে থিম পার্ক তৈরি করা।

কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব ক্রীড়াজগতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে আসছে। বিভিন্ন বড় ইভেন্ট আয়োজন ও বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়কে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছে। ফুটবলের বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়দের সেখানে খেলতে বা প্রচারমূলক চুক্তিতে যুক্ত হতে বড় অঙ্কের অর্থ ও চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

কিন্তু এখন অর্থনৈতিক চাপের কারণে কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনায় কাটছাঁট করা হয়েছে, কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে আর কিছু আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এগুলো বর্তমান অবস্থায় লাভজনক নয়।

সৌদি আরবের বিপুল খরচের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, দেশটি থেকে আসা বিপুল অর্থ দিয়ে ক্রীড়াজগৎ তাদের নানা সমস্যার সমাধান করেছে। পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগের ফলে অনেক বড় ক্রীড়া সংগঠন, দল ও খেলোয়াড়ের আয় বেড়েছে। তারা বেতন, ইভেন্ট আয়োজন ফি ও স্পনসরশিপ বাবদ যে অর্থ দিয়েছে, তা ক্রীড়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

এক বিবৃতিতে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বলেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এলআইভি গলফে এত বড় বিনিয়োগ এখন আর তাদের কৌশলের সঙ্গে মিলছে না। ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, এখন তারা তাদের বিনিয়োগের অগ্রাধিকার এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় করছে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর ইয়াসির আল রুমায়ন আগে একসময় এলআইভি গলফের চেয়ারম্যান ছিলেন। রুমায়ন বলেছেন, এখন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ কিছু বড় প্রকল্পের লাগাম টানবে এবং বিনিয়োগকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেবে।

ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো, ২০৩৪ সালের ফিফা ওয়াল্ড৴ কাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয় মেটানোসহ নানা আর্থিক চাপের মধ্যে আছে দেশটি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তা ছাড়া যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বলেছে, তারা ক্রীড়া খাতের বিনিয়োগ থেকে পুরোপুরিভাবে সরে যাচ্ছে না। প্রিমিয়ার লিগের দল নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং ক্রীড়াবিষয়ক সম্প্রচারমাধ্যম ডিএজেডএনে তাদের বিনিয়োগ থাকবে।

তবে কিছু সৌদি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই স্নুকার, টেনিসসহ কয়েকটি বড় ক্রীড়া আয়োজনের পরিকল্পনা বাতিল বা প্রত্যাহার করেছে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বলেছে, তারা তাদের বিনিয়োগকৌশল অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে। তারা এখনো ক্রীড়া খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব ক্রীড়াজগতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে আসছে। বিভিন্ন বড় ইভেন্ট আয়োজন ও বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়কে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছে। ফুটবলের বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়দের সেখানে খেলতে বা প্রচারমূলক চুক্তিতে যুক্ত হতে বড় অঙ্কের অর্থ ও চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

গলফ খাতে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি ছিল এলআইভি গলফে। এই প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন ইয়াসির আল রুমায়ন। উদ্যোগটি গলফ–জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষুব্ধ করে। কারণ, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় টুর্নামেন্ট থেকে শীর্ষ খেলোয়াড়দের অনেক বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে টেনে নিচ্ছিল। কখনো কখনো এ ক্ষেত্রে ৪০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তিও হয়েছে।

এ প্রকল্পে শুধু খেলোয়াড় নন, বিভিন্ন গলফ ভেন্যুর মালিকেরাও বড় অঙ্কের আয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, ফ্লোরিডা ও ওয়াশিংটনে নিজের মালিকানাধীন কোর্সে এলআইভি ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে ফি পেয়েছেন।

এ নতুন টুর্নামেন্টটি শুরু থেকেই প্রচলিত গলফ সংগঠনের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়ে, যা এক বছর ধরে চলা আইনি ও প্রকাশ্য লড়াইয়ে রূপ নেয়। ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার একটি চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এলআইভি গলফ শুরু থেকেই বড় লোকসানে চলছিল। প্রতিবছর তাদের শত শত মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছিল। ২০২৪ সালে তারা প্রায় ৬০ কোটি ডলার লোকসান করেছে, যেখানে আয় ছিল ৯ কোটি ডলারের কম।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গলফ প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এলআইভি বলেছে, তারা নতুন পর্ষদ সদস্য নিয়োগ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজছে, যেন তারা একক বিনিয়োগ থেকে বহু অংশীদারভিত্তিক মডেলে যেতে পারে।

Read full story at source