ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে স্বপ্নের আলো

· Prothom Alo

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধস—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে সেদিন পাঁচটি পোশাক কারখানার ১ হাজার ১৩৬ শ্রমিক প্রাণ হারান। সাভারের সেই ধ্বংসস্তূপ শুধু একটি ভবনকেই শেষ করেনি, কেড়ে নিয়েছিল হাজারো স্বপ্ন, অসংখ্য পরিবারের ভরসা। সময়ের নিয়মে পেরিয়ে গেছে ১৩টি বছর। ক্ষত হয়তো শুকিয়েছে কিছুটা, কিন্তু স্মৃতির ভেতর সেই ধ্বংসস্তূপ এখনো নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।

Visit casino-promo.biz for more information.

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে খাবার, পানি, অক্সিজেন, চিকিৎসাসেবা নিয়ে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রথম আলো শুরুর দিন থেকেই ছিল। প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ওষুধ ও সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালগুলোয় কাজ শুরু করে প্রথম আলো বন্ধুসভা।

ওই বছরের ২৬ এপ্রিল পূর্বনির্ধারিত মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠানে ছিল শোকাবহ পরিবেশ। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-২০১৩-এর অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় রানা প্লাজা ধসে দুর্গত ব্যক্তিদের। অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এক দিনের বেতন থেকে প্রাপ্ত দুই লাখ টাকা অনুদানের মাধ্যমে মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী অনুদান দেন ১০ লাখ টাকা। হাসি–আনন্দে মাতিয়ে রাখা বিনোদনজগতের মানুষেরা সেদিন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আয়োজনে জ্বালান এক অন্য আলো। রানা প্লাজা ধসের দুই দিন পর ২৬ এপ্রিল মোট ৫৪ লাখ টাকা নিয়ে ‘মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল’ যাত্রা শুরু করে। একে একে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এতে অনুদান দেন। সেই তহবিল থেকেই রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিলের লোগো।

সময়ের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘশ্বাস থেকে গেছে; আর ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে গেছে মানুষের সহায়তা। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়জুড়ে কিছু হাত থেমে থাকেনি। জরুরি সহায়তার পর শুরু হয় ধীরে ধীরে পুনর্বাসনের পথে এগিয়ে যাওয়া। সাভার সহায়তা তহবিলে বিভিন্ন সময়ে মোট জমা হয় প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এই তহবিল থেকে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসায় প্রায় ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ১০১ ব্যক্তিকে পুনর্বাসন–সহায়তায় ব্যয় করা হয় ১ কোটি ৫০ হাজার টাকা, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারেন।

কিন্তু এই সহায়তার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও আলোকিত দিকটি হলো শিক্ষা। তহবিলের বাকি অর্থ থেকে ৫০ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত করা হয়। এই আমানতের লভ্যাংশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত (আহত-নিহত) পরিবারের ২০ সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ২০ জন সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় এক নীরব যাত্রা।

সূত্র: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলোর প্রিন্ট সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৬।

Read full story at source