প্রায় ১৫ ঘণ্টা উৎপাদনে থাকার পর আবার বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।
Visit sportbet.rodeo for more information.
বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আগে বুধবার রাত ১০টা ৩ মিনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় বয়লারের পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেটি বন্ধ হয়ে গেল।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আবার উৎপাদন শুরুকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারের বাষ্প ঠান্ডা হতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধঘন ঘন লোডশেডিং
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আট জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানান একাধিক বাসিন্দা। মন্মথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টার মধ্যে গড়ে এক ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। গত চার দিন ধরে এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। বর্তমানে শহরে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া হচ্ছে, আর ভোল্টেজ ওঠানামা করছে অন্তত ১৫ বার।
এদিকে লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান একাধিক পরীক্ষার্থী। তাঁরা বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করছেন। তবে গরমের কারণে পড়ায় মন দিতে পারছেন না।
পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিফ রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যে হিসাব দিচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই; এটি কেবল কাগুজে হিসাব। বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি হচ্ছে।
সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকেই প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে মিল-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
