হজে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হজের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করা হলো—
নিয়ত ও আত্মশুদ্ধি
যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি নিয়ত। হজও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তারা তো এ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ পায়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে একনিষ্ঠভাবে।’ (সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫)
Visit asg-reflektory.pl for more information.
তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য। যদি নিয়তে গরমিল থাকে, তাহলে এখনই তা পরিশুদ্ধ করা জরুরি।
একইসঙ্গে অহংকার, হিংসা, রিয়া (লোক দেখানো), বিদ্বেষ প্রভৃতি ধরনের অন্তরের ব্যাধি দূর করার চেষ্টা করতে হবে। হজ এমন একটি ইবাদত, যেখানে আল্লাহর দরবারে একান্তভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়।
হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য।
হালাল পাথেয়র ব্যবস্থা
হজের ব্যয়ভার অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে। হারাম উপার্জন দ্বারা ইবাদত করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ–তাআলা পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)
বর্তমান সমাজে অনেকেই বিভিন্নভাবে অবৈধ আয়ে জড়িয়ে পড়ে। হজে যাওয়ার আগে নিজের আয়ের উৎস যাচাই করা জরুরি। যদি কোনো সন্দেহজনক বা হারাম আয় থাকে, তবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তওবা করতে হবে।
শাওয়াল: হজের প্রস্তুতির মাসহজের মাসআলা শেখা
হজ একটি জটিল ইবাদত, যেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হয়। সঠিক জ্ঞান থাকলে হজের প্রতিটি ধাপ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়। এতে ইবাদতের আনন্দও বৃদ্ধি পায়।
অনেকে অজ্ঞতার কারণে হজের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ভুলভাবে করে ফেলে এবং হজ ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। বিশ্বস্ত আলেমদের কাছ থেকে হজের মাসআলা শেখা উচিত। বই, লেকচার বা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের মাধ্যমেও প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২৯৭)
অনেকে অজ্ঞতার কারণে হজের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ভুলভাবে করে ফেলে এবং হজ ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। বিশ্বস্ত আলেমদের কাছ থেকে হজের মাসআলা শেখা উচিত।
ঋণমুক্ত হওয়া
হজে যাওয়ার আগে যদি কারও ওপর ঋণ থাকে, তাহলে তা পরিশোধ করা বা অন্তত ঋণদাতার অনুমতি নেওয়া উচিত। হজে যাওয়া অবশ্যই একটি মহান ইবাদত, কিন্তু ঋণের দায় এড়িয়ে গিয়ে এই ইবাদত সম্পন্ন করা ঠিক নয়।
আল্লাহর হক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বান্দার হকও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের কারণে আটক থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৮)
প্রথম আলোর হজ গাইড: ১৭ বছরে বিতরণ ২২ লাখ কপিপরিবারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা
হজে যাওয়ার আগে পরিবারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের খরচ, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিকভাবে ব্যবস্থা করে যেতে হবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের জন্য এটিই যথেষ্ট পাপ যে সে তার অধীনদের (যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর) অবহেলা করে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৯২)
তাই হজে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যাওয়া, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা উচিত। এতে করে হজের সময় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না এবং মনোযোগ দিয়ে ইবাদতটি পালন করা সহজ হবে।
হজে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যাওয়া, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা উচিত।
দোয়া ও আমলের অভ্যাস
হজের সময় বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইবাদতে সময় কাটাতে হয়। তাই আগে থেকেই এসবের অভ্যাস তৈরি করা উচিত। নিয়মিত নামাজ, কোরআন পাঠ, জিকির-আজকার, দোয়া—এসবের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়।
এতে হজের সময় ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। হজ এমন একটি সময়, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই দোয়ার তালিকা তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীলতা ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে এমন হয়ে ফিরে আসে যেন আজই তার জন্ম হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮২০, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৫০)
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
‘তোমরা দ্রুত হজ আদায় করো’