হাম-রুবেলার দুই ডোজ টিকায় শিশুর সুরক্ষা প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছায়

· Prothom Alo

হাম-রুবেলার এক ডোজ টিকা প্রায় ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয় এবং শিশু দুই ডোজ টিকা পেলে এই সুরক্ষার হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছায়। যখন শিশুদের সময়মতো টিকার ডোজ দেওয়া না হয়, তখন নীরবে সুরক্ষার ঘাটতি বাড়তে থাকে; আর আমরা যখন তা টের পাই, ততক্ষণে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আজ সোমবার এই বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘এই টিকাদান কর্মসূচি আমাদের এ ধরনের পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।’

আজ ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনা মূল্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে—আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও, এই বয়সী সব শিশুকে আবারও এই টিকা নিতে হবে। এই বয়সের শিশুরাই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এই প্রসঙ্গে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘ইউনিসেফ, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে; পরিকল্পনা প্রণয়ন, কমিউনিটিকে সংগঠিত ও মোবিলাইজ করা, টিকা সরবরাহ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৃহৎ পরিসরে এই জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব করার ক্ষেত্রে গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এই টিকাদান প্রচেষ্টা জোরদার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমাদের অংশীজনদের সঙ্গে এবং দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি, যেন দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাসহ সব জায়গায় টিকা পৌঁছে যায়।’ প্রতিটি শিশুর জন্য টিকা নিশ্চিত করা এবং অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা চলমান টিকা কর্মসূচির উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়, ‘৫ এপ্রিল জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা ভালো অগ্রগতি দেখছি। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ শিশু—লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ—ইতিমধ্যে টিকা পেয়েছে।’

সংকট মোকাবিলার তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রশংসা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীনে প্রাথমিকভাবে দ্রুত জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং অল্প সময়ের মধ্যে এখন দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান শুরু করার মধ্য দিয়ে সরকার সংকট মোকাবিলার যে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, সে জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করছি। জীবন রক্ষা করতে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব।’

প্রতিটি প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো, কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কোনো শিশু যেন টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা।’

রোগের প্রাদুর্ভাব ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই কেবল দেশজুড়ে চলমান টিকাদান কর্মসূচি একমাত্র লক্ষ্য নয় উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণ, টিকা না পাওয়া প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে শিশুদের শক্তিশালী সুরক্ষা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। টিকা জীবন বাঁচায়। টিকা যে সুরক্ষা দেয়, তার প্রমাণ আমরা প্রতিদিন পাই এবং শিশুরা টিকা না পেলে তার জন্য যে মূল্য দিতে হয়, সেটাও আমরা দেখতে পাই।’

Read full story at source