বৈশাখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আবদার পূরণ করলেন বন্ধুরা

· Prothom Alo

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বৈশাখী মেলা পরিদর্শন ও তাদের ইচ্ছেপূরণ করতে ‘পথশিশুদের হাসিতে বৈশাখের রং’ শিরোনামে বিশেষ আয়োজন করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ১৪ এপ্রিল বিকেলে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মেলা প্রাঙ্গণে এদিন মেলার হরেক রকম মুখরোচক খাবার ও বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে খুশি হয় শিশুরা।

Visit turconews.click for more information.

প্রথমে শিশুদের কাছে তাদের ইচ্ছের কথা জানতে চান বন্ধুরা। তারা বন্দুক নিশানা খেলায় আগ্রহ প্রকাশ করে। বন্ধুরা তাদের এই ইচ্ছে পূরণ করেন। তারপর পুরো মেলা ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী বাহারি মুখরোচক খাবার খাওয়ানোর আবদার মেটান বন্ধুরা।

বন্দুক নিশানা খেলায় শিশুরা

নতুন খেলনা গাড়ি পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ৯ বছরের সেলিম মিয়া বলে, ‘আপনেরা গাড়ি কিনে দিছুইন (দিয়েছেন), মজা কিনে কিনে দিছুইন, আপনারা অনেক বালা।’

সাত বছর বয়সের ইসমাইলের কণ্ঠে মেলায় ঘুরার ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সে বলে, ‘আমার বাপ নাই; মায়ে একটা দোকানে কামের জন্য দিছিল। ওরা অনেক খাটায়, টেহা দেয় না। তাই মায়ে কাম করতে দেয় না। মায়ের তো এত টেহা নাই, মেলায় ঘুরবোই কই, কিনেই দিবো কী! আপনারা ঘুরাইলাইন, খাওয়াইলাইন, বালা লাগতাছে।’

এ বিষয়ে বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন, ‘বৈশাখের রং ছোট–বড় সবার মধ্যে বিরাজমান। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বৈশাখ একটি আবেগ। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই আবেগ বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আকাশকুসুম কল্পনা। তারা প্রায় সব সময়ই এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এসব শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।’

শিশুদের উচ্ছ্বাস

সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল ইমরান বলেন, ‘নিশ্চয়ই সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও এই দিনটির জন্য মুখিয়ে থাকে। সুযোগের অভাবে হয়তো বাংলা নববর্ষের সুন্দর দিনটি তারা সুন্দরভাবে পালন করতে পারে না। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ওদের মুখের হাসি ফুটানোর পাশাপাশি আত্মতৃপ্তিও দিয়েছে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, বইমেলা সম্পাদক প্রিয়রঞ্জন পাল, বন্ধু এসফাকসহ অন্য বন্ধুরা।

সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা

Read full story at source