‘আশাজির গান শুনেই বেড়ে ওঠা...মনের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, তাঁর কোনো না কোনো গান যেন সবকিছুর সঙ্গেই মিলে যেত। কত স্মৃতি, কত আবেগ জড়িয়ে আছে সেই কণ্ঠের সঙ্গে। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের বেড়ে ওঠার একটা অংশ যেন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।’
বলিউডের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও ভারতের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশা ভোসলের মৃত্যুর খবরে শোকাহত যুবরাজ সিংয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্ট। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে আশা ভোসলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোসলে।
Visit sportbet.rodeo for more information.
আট দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতভুবন মাতানো এই কিংবদন্তির প্রস্থানে শোকাহত ক্রিকেট–দুনিয়াও। যুবরাজের মতো ভারতের আরেক ক্রিকেট কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন, ‘আশা ভোসলেজির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর কণ্ঠ চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে এবং ভারতীয় সংগীতে অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
মোট ২০টি ভাষায় গান করেছেন আশা ভোসলে। অর্থাৎ শুধু ভারতীয় সংগীতের ভাষাই নয়, অন্য ভাষা ও অন্য দেশের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও অনেক গান করেছেন কিংবদন্তি। তাঁদের একজনের নাম ব্রেট লি। ঠিকই ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি পেসার।
Grew up listening to Asha ji… didn’t matter the mood, there was always a song of hers that fit it perfectly. So many memories, so many emotions tied to that voice. It feels like a part of our growing up has gone silent today.
— Yuvraj Singh (@YUVSTRONG12) April 12, 2026
Rest in peace Asha ji My deepest condolences.… pic.twitter.com/tHFJeHrotF
ক্রিকেটের বড় ভক্ত ছিলেন আশা। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই একসময় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার ব্রেট লির সঙ্গে একটি গানে কণ্ঠ দেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘ইউ আর দ্য ওয়ান ফর মি’ শিরোনামের গানে ব্রেট লির সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন আশা। সংগীত ও ক্রিকেট—দুই ভুবনের ভক্তরাই চমকে গিয়েছিলেন এ জুটির যুগল কণ্ঠে। শ্রোতাদের মন জয় করে নেওয়া এই ট্র্যাকটি বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল।
রিটায়ার্ড আউটের নতুন যুগ, লাভ হচ্ছে কতটাব্রেট লি তাঁর আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ’–এ আশা ভোসলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী লি বইয়ে জানান, ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে ভারতে গিয়ে মিউজিক ভিডিওর শুটিং করেছিলেন। হিন্দিতে ‘হাঁ, ম্যায় তুমহারা হুঁ, তুমহারা হি রহুঙ্গা’ গান গেয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী লি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০০৬ ও ২০০৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী লি বইয়ে লেখেন, ‘খুব মজা করেছিলাম। শুটিংয়ে যাওয়ার সময় আমার কোনো সতীর্থকেই বলিনি যে আমি কী করছি। তাদের বলেছিলাম, শহরের রাস্তাঘাট ঘুরে দেখতে যাচ্ছি। সেই দ্রুত লয়ের রেকর্ডিং–অভিজ্ঞতার চার মাস পর সিডনি অপেরা হাউসে এক অনুষ্ঠানে আশার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে তাঁর একটি সংকলিত অ্যালবামে ব্যক্তিগত বার্তা লিখে উপহার দিয়েছিলেন। এটি চিরকাল আমার অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।’
লি আরও জানান, ‘আশা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গানটির কথা তিনি মাত্র আধা ঘণ্টায় লিখেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণায় লি লেখেন, ‘আমাকে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে আমি গাইতে পারি। দলের হোটেলের একটি কক্ষে কয়েকটি গান গেয়ে আমি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। শমীর (ট্যান্ডন) ফলাফলে খুশি ছিলেন। আমাকে জানানো হয়, সংকলনের জন্য একটি গান বেছে নেওয়া হবে...শুধু একটি বিষয় আমার বদলানোর ছিল।’
ডাগআউটে মুঠোফোন, বিপদে পড়তে যাচ্ছে রাজস্থানলি জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমি কি নিজের গান নিজে লিখতে পারি’—এরপর ভার্জিন রেকর্ডস ইন্ডিয়ার সিইও শমীর ট্যান্ডনের অনুমতি পাওয়ার পর লি গানটি লিখতে শুরু করেন। ২০১১ সালে আশা ভোসলের প্রশংসায় লি তাঁর সঙ্গে কাজ করাকে ‘অসাধারণ সুযোগ’ বলেন। লি লিখেছিলেন, ‘অত্যন্ত চমৎকার ও ভদ্র একজন মানুষ, যার রসবোধ দারুণ। এমন এক কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করাটা সত্যিই এক বিশাল সুযোগ ছিল। সত্তরের কোঠায় থেকেও তিনি বলিউড চলচ্চিত্রের জন্য হাজার হাজার গান গেয়েছেন এবং অসংখ্য অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে তিনি আরেথা ফ্র্যাঙ্কলিনের মতো।’
ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্রেট লি গানের সঙ্গে বহুদিন ধরে আছেন। অস্ট্রেলিয়ান রক ব্যান্ড ‘সিক্স অ্যান্ড আউট’–এর সদস্য তিনি। ১৯৯৯ সালে এই ব্যান্ড গঠন করা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক তিন ক্রিকেটার এবং ভাই শেন লি এই ব্যান্ডের সদস্য। অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা পাঁচ ক্রিকেটার এই ব্যান্ডের সদস্য। লি এই ব্যান্ডের বেজ গিটার বাজানোর পাশাপাশি কণ্ঠ দেন।
