ছবি বিশ্লেষণ, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও মার্কিন গণমাধ্যমের ব্রিফিং অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে।
Visit h-doctor.club for more information.
বিবিসি দিন ধরে সেগুলোর একটি তালিকা করেছে।
৫ এপ্রিল
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ৫ এপ্রিল সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে ভূপাতিত হয় একটি এফ–১৫ই যুদ্ধবিমান। সেই বিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করতে অভিযানে সহায়তার জন্য ইরানে দুটি পরিবহন উড়োজাহাজ পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু উড়োজাহাজ দুটি ইরানের একটি প্রত্যন্ত ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করতে ব্যর্থ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই উড়োজাহাজ দুটি শত্রুর হাতে পড়া আটকাতে মার্কিন বাহিনীই সেগুলোকে বোমা মেরে ধ্বংস করে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৫ এপ্রিল ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইরানের ইসফাহান শহরের দক্ষিণে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়, যেগুলো থেকে তখনো ধোঁয়া উড়ছিল। বেশ কিছু ছবিও ছড়ায়। পরে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়। ধ্বংস করা পরিবহন উড়োজাহাজ দুটি কী ধরনের ছিল, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৩ এপ্রিল
৩ এপ্রিল ইরানের আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা দেশটির মধ্যাঞ্চলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। পরে ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখে জানা যায়, ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানটি একটি ইউএস এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল। এ যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করে আনতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইরানে অভিযান চালায়।
একই দিন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ যুদ্ধবিমান উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।
২৯ মার্চ
গত ২৯ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। এই নজরদারি উড়োজাহাজ আগাম সতর্কতা ও নির্দেশনা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো।
এফ-১৫ই থেকে ই-৩ সেন্ট্রি, ইরান যুদ্ধে যেসব উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রইরানের মধ্যাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগলের ধ্বংসাবশেষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি ছবিটি প্রকাশ করেছে। ৩ এপ্রিল ২০২৬১২ মার্চ
১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী এ উড়োজাহাজ শত্রু বা মিত্রের গুলিতে ভূপাতিত হয়নি; বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–তে অংশ নেওয়ার সময় অন্য একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে এটি দুর্ঘটনায় পড়েছিল।
দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
২ মার্চ
২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভুলে গুলি করে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। অবশ্য তিনটি যুদ্ধবিমানের ছয় ক্রুর সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুয়েত সিটির পশ্চিমে আকাশ থেকে একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়ে যাচ্ছে। আরেকটি ফুটেজে একজন ক্রুকে প্যারাস্যুটে করে নেমে আসতে দেখা গেছে। বিবিসি ভিডিওগুলো যাচাই করেছে।
ক্রু উদ্ধারের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি করতে’ এসেছিল: ইরান