অজু বা পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করার পর শরীরের পানি তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে মোছা যাবে কি না, তা নিয়ে ফকিহ ও আলেমদের মধ্যে দুটি প্রধান মত রয়েছে। তবে অধিকাংশের মতে এটি জায়েজ এবং প্রয়োজনে মোস্তাহাব।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
নবীজিকি শরীর মুছতেন
হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের ফকিহদের মতে, অজু-গোসলের পর পানি মোছাতে কোনো বাধা নেই। তাঁরা এর স্বপক্ষে বেশ কিছু বর্ণনা পেশ করেন:
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা: নবীজির একটি তোয়ালে বা কাপড় ছিল, যা দিয়ে তিনি অজুর পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুছতেন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫৪)
উম্মেহানি (রা.)-এর বর্ণনা: মক্কা বিজয়ের সময় নবীজি (সা.) গোসল করার পর একটি কাপড় দিয়ে শরীর জড়িয়ে নিয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৩৬)
সাহাবিদের আমল: ইমাম ইবনুল মুনজির উল্লেখ করেছেন যে ওসমান ইবনে আফফান, হোসাইন ইবনে আলি ও আনাস বিন মালিক (রা.)-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবিরা অজুর পর শরীর মুছতেন। (ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, ১/১৯৫)
ভিন্নমত ও তার ব্যাখ্যা
কোনো কোনো আলেম অজু বা গোসলের পর শরীর মোছাকে অপছন্দ করেছেন এবং মাকরুহ বলেছেন। তাঁদের প্রধান দলিল হলো মাইমুনা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস।
তিনি বলেন, “আমি নবীজির গোসলের পর তাঁর কাছে একটি রুমাল বা তোয়ালে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং হাত দিয়ে শরীর থেকে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩১৭)
অধিকাংশ আলেমের মতে, নবীজি (সা.) তোয়ালে গ্রহণ করেননি—এর অর্থ এই নয় যে এটি নিষিদ্ধ। বরং এটি ছিল তাঁর তৎকালীন ব্যক্তিগত পছন্দ বা বিশেষ কোনো কারণ। কোনো বৈধ কাজ নবীজি (সা.) বর্জন করলেই তা মাকরুহ হয়ে যায় না।
ফকিহদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষ অনুযায়ী, অজু ও গোসলের পর রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে শরীর মোছাতে কোনো দোষ নেই। (আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২৩)
ঘুমালে কেন অজু ভঙ্গ হয়ইমাম ইবনে কুদামা তাঁর আল-মুগনি গ্রন্থে লিখেছেন, “অজু ও গোসলের পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মোছাতে কোনো ক্ষতি নেই।” (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯৫)
তবে উত্তম কোনটি, সে বিষয়ে মতভেদ আছে:
শাফিয়ি মাজহাব: তাঁদের মতে, একান্ত প্রয়োজন (যেমন তীব্র শীত বা অসুস্থতা) ছাড়া না মোছাটাই উত্তম, যাতে অজুর চিহ্নের স্থায়িত্ব থাকে।
হানাফি মাজহাব: তাঁদের মতে, মোছা বা না মোছা উভয়ই সমানভাবে বৈধ, তবে অহংকারবশত কোনোটিই করা যাবে না।
অজু বা গোসলের পর শরীর মোছা সম্পূর্ণ জায়েজ। বিশেষ করে শীতকাল বা অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকলে মোছাটাই শ্রেয়।
আর কেউ যদি বরকতের আশায় পানি শরীরে শুকাতে চায়, তবে সেটিও সুন্নাহ পরিপন্থী নয় এবং তাতে অজু বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের সওয়াব কোনো অংশে কম হবে না।
অজুর দোয়া: কখন কীভাবে পড়বেন