শরীয়তপুরের কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন একটি অ্যাপ চালু করেছে। প্রতিটি পেট্রলপাম্প ও সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ওই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে অ্যাপটি চালু করা হয়েছে।
রোববার থেকে কৃষি বিভাগ ও পেট্রলপাম্পের কর্মীরা অ্যাপের মাধ্যমে শুধু নিবন্ধিত কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করবেন।
Visit extonnews.click for more information.
এর আগে গত ৩০ মার্চ জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ মজুত রোধে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অ্যাপ চালু করা হয়। ওই অ্যাপ ব্যবহার করে যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করতে আরেকটি অ্যাপ চালু করা হলো। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার প্লাবন কুমার সাহা অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেন।
শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ জানায়, শরীয়তপুর জেলার ফিলিং স্টেশন ও সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোয় কৃষি বিভাগের কর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন। কৃষকদের জন্য চালু করা অ্যাপে কৃষি বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩৮২ জন কৃষকের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। একজন কৃষক ২৪ ঘণ্টায় সাত লিটার ডিজেল নিতে পারবেন।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, শরীয়তপুরে চলতি বোরো মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ৮২ হাজার কৃষকের আবাদ করা এসব জমিতে ২ হাজার ৫০০টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। শরীয়তপুর জেলায় সাতটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলোতে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রল ও ১২ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রও রয়েছে। পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের জন্য জেলায় ১২ হাজার জেলেনৌকা রয়েছে। নৌকাগুলোয় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন।
কৃষকদের জন্য চালু করা অ্যাপে কৃষি বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩৮২ জন কৃষকের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। একজন কৃষক ২৪ ঘণ্টায় সাত লিটার ডিজেল নিতে পারবেন।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন জানায়, জেলা প্রশাসনের আইসিটি বিভাগ থেকে দুটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। যানবাহনের জন্য চালু করা অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিটি পেট্রলপাম্পের কর্মীরা যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যুক্ত করে জ্বালানি তেল দিচ্ছেন। একটি যানে ২৪ ঘণ্টায় জেলার যেকোনো স্থান থেকে একবার তেল সংগ্রহ করা যাবে। একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে তেল নেওয়ার পর আরেকটি বিক্রয়কেন্দ্রে গেলে অ্যাপের মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। এতে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন না। জ্বালানি তেল বিক্রির তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের আইসিটি বিভাগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। সেখানে দেখা যাবে, প্রতিদিন কতটি যানবাহনে কত লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজারের হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল নেওয়ার জন্য কয়েক শ কৃষক অপেক্ষা করছেন। তাঁরা সকাল থেকে পাম্পে ভিড় করছেন। কিন্তু ডিজেল না থাকায় প্রথমে তাঁদের দেওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তেল আসার পর বিকেল চারটা থেকে কৃষকদের মধ্যে ও যানবাহনচালকদের অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। সে সময় দেখা যায়, অনেক কৃষক জেলা প্রশাসনের ওই অ্যাপে নিবন্ধিত নন। উপস্থিত সব কৃষককে কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তেল সরবরাহ করার নির্দেশ দেন পাম্প কর্তৃপক্ষকে। আগামীকাল রোববার থেকে ওই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের নিবন্ধন শনাক্ত করে ডিজেল সরবরাহ করা হবে। ডিজেল নিতে হলে কৃষককে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে।
জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনে ভিড়হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনের সহব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিপো থেকে প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমরা পাচ্ছি না। যে কারণে কৃষকদের প্রতিদিন ডিজেল দেওয়া যাচ্ছিল না। অ্যাপ চালুর পর কৃষক নিবন্ধিত কি না এবং যানবাহনে অন্য স্থান থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে জ্বালানি তেল দিচ্ছি।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজন বিবেচনা করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে চাই। এ ছাড়া কোনো অসাধু চক্র যাতে জ্বালানি তেল মজুত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাপ চালু করেছি। অ্যাপ দুটির মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রতিদিনের তথ্য আসছে। অ্যাপের মাধ্যমে নেওয়া তথ্য দিয়ে আমরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’
