জ্বালানিসংকটে জামালপুরে নৌ চলাচল বন্ধের মুখে, বিপাকে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা

· Prothom Alo

দীর্ঘদিন ধরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল ঘাটে যমুনা নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন খাইরুল মিয়া। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটে এখন তাঁর নৌকা ঘাটেই ভিড়িয়ে রাখতে হচ্ছে।

Visit sport-tr.bet for more information.

আক্ষেপ নিয়ে খাইরুল মিয়া বললেন, ‘বাজারের খুচরা দোহানে গেলে কয়, ত্যাল নেই। বেশি ট্যাহা দিলে ত্যাল পাওন যায়, আবার অনেক সুম (সময়) বেশি দামেও মিলে না। আগে এই ঘাট থেইক্যা প্রত্যেক দিন শত শত নৌকা ছাড়তো, আর এহন ২০ টাও চলে না!’

খাইরুল মিয়ার মতো যমুনা নদীঘেঁষা ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে ডিজেল না পেয়ে অনেকেই নৌকা চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় অবস্থায় পড়েছেন মাঝিরা।

ইসলামপুর উপজেলায় গুঠাইল বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। ঘাটটি দিয়ে ইসলামপুরের কয়েকটি চরাঞ্চল এবং পাশের গাইবান্ধা, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সহজেই চলাচল করা যায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে ঈদুল ফিতরের আগ থেকেই নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা এখন প্রায় বন্ধের মুখে।

ঘাট থেকে অল্প কয়েকটি নৌকা ছাড়ছে। এতে ঠাসাঠাসি করতে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের

নৌকা চালকদের অভিযোগ, বেশি দাম দিলে তেল জোগাড় করা যায়। কিন্তু সেই বাড়তি দামে তেল কিনে নৌকা চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বাড়ানো যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের মানুষ সারা বছর যে ভাড়ায় যাতায়াত করেন, তার বেশি দিতে রাজি নন। এতে খরচ ও আয়ের হিসাব না মেলায় অনেক চালক নৌকা চালানো বন্ধ করেছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে গুঠাইল নৌকা ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার পাড়ে কয়েকটি নৌকা বাঁধা। সেখানে চালকেরা কেউ নৌকা পরিষ্কার করছেন, কেউবা বসে আড্ডা দিচ্ছেন। দুই-একটি নৌকা ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছেন। সেখানে আবার যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। একই চিত্র মুরাদাবাদ, কুলকান্দি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নৌঘাটে।

গুঠাইল ঘাটের নৌকাচালক রবিউল ইসলাম জানান, এখন ডিজেল কিনতে হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। এত দামে তেল কিনে নৌকা চালানো সম্ভব না।

এই অবস্থায় ঘাটের আশপাশের দোকানদার ও শ্রমিকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যাত্রী কমে যাওয়ায় বেচাকেনা কমেছে। নৌকা না চললে মানুষও আসে না। এতে বাজারের ব্যবসাও পড়ে গেছে। অনেক যাত্রী জরুরি প্রয়োজনে পারাপার হতে না পেরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে রোগী পরিবহন বা জরুরি কাজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোথাও বেশি দামে তেল বিক্রির তথ্য পেলে, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সবাই মিলে সচেতন হলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। নৌকার তেলের বিষয়ে আমরা ভেবে দেখব—কী করা যায়।’

Read full story at source