ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় তিন দিন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ছিলেন দিনাজপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। সে যাত্রায় তিনি বেঁচে ফেরেন। ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিও কুষ্টিয়া শহরের কাছাকাছি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পার্বতীপুরের আটরাই গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আটরাই গ্রামের বাসিন্দা। ঈদে তিনি রাজবাড়ীতে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি নাজমিরা খাতুনের (৩১) বাসায় বেড়াতে যান। ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনায় নাসিমা, নাজমিরা ও তাঁর ছেলে আবদুর রহমানের (৪) মৃত্যু হয়।
Visit casino-promo.biz for more information.
সেদিনের বাসডুবির ঘটনা প্রসঙ্গে নাজমিরার ভাশুর লিটন শেখ বলেন, ‘দুপুরের পরে ভাই, ভাতিজা, ভাইয়ের বউ ও ভাইয়ের খালাশাশুড়ি ঢাকার উদ্দেশে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসডুবির ঘটনা জানতে পারি। বাসটি যখন ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল, ভাই তখন বাস থেকে নিচে নামেন। কিছু সময় পরে আবার বাসে ওঠেন। বাস পানিতে পড়ে গেলে ভাইসহ সবাই তখন বাসের ভেতরে ছিলেন। ভাই ডুবন্ত বাস থেকে বের হয়ে একটা নম্বর থেকে আমাকে ফোন করেন। পরে আমি দ্রুত সেখানে যাই। কিন্তু আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে পারিনি। রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়। একটা পরিবারের তিনটা মানুষ চলে গেলেন। গত বৃহস্পতিবার মহেন্দ্রপুরে তাঁদের দাফন করা হয়েছে।’
নাসিমার ছেলে নাছিরুল ইসলাম (২৪) জানান, তাঁর বয়স যখন দুই বছর, তখন তাঁর মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়। আট বছর আগে নাসিমার দ্বিতীয় বিয়ে হয় আটরাই গ্রামের নুর ইসলামের সঙ্গে। প্রথমবার বিবাহবিচ্ছেদের পর নাসিমা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ নেন। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। এর পর থেকে তিনি গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। সাত মাস আগে স্বামী নুর ইসলামের মৃত্যু হলে বোন সানোয়ারার সংসারে থিতু হন নাসিমা। কাজের সন্ধান করছিলেন। এর মধ্যেই যোগাযোগ হয় ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত বোনের মেয়ে নাজমিরার সঙ্গে। কথা ছিল ঈদের ছুটি শেষে ভাগনির সঙ্গে কাজে যোগ দেবেন। সে জন্যই ১৩ মার্চ রাজবাড়ীতে তিনি ভাগনির বাড়ি যান এবং সেখানেই ঈদ উদ্যাপন করেন। ঈদ শেষে ভাগনির সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘নাসিমার বাড়ি গিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে।’
