মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সাত বস্তা মৃত পরিযায়ী পাখিসহ পাখি শিকারে ব্যবহৃত তিনটি শটগান, একটি এয়ারগান এবং ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকা থেকে পাখি ও অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়।
Visit mwafrika.life for more information.
আজ শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ স ম হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আবদুল্লাহ নূর (৭২) এবং আরিক আহমেদ (২৭) নামে ছয় ব্যক্তি বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেট কারে করে গজারিয়া আসেন। বৃহস্পতিবার তাঁরা ট্রলারে করে গজারিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্দুক দিয়ে গুলি করে ৭ বস্তায় প্রায় ৪ মণ পরিযায়ী পাখি শিকার করেন। বৃহস্পতিবার রাতে পাখি শিকার শেষে তাঁরা একসঙ্গে ফিরছিলেন।
মাথাভাঙ্গা এলাকায় এলে স্থানীয় জনতা তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সে সময় ওই ছয়জন তাঁদের অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁদের বয়স বিবেচনা করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে এক লাখ এবং অন্য পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাখি শিকারে ব্যবহৃত তিনটি শটগান, একটি এয়ারগান এবং ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক দিনেই কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি শিকার করা হয়েছে। এর আগে কত হয়েছে, জানা নেই। এভাবে পাখিনিধন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।