ঈদের সময় দুর্ঘটনা বেশি, বড় কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালনা

· Prothom Alo

ঈদে সড়কে বাড়তি চাপ দুর্ঘটনা বাড়িয়ে তোলে। তাই এ সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দিতে হবে। 

২০২৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২ হাজার ১২১ জন নিহত হন। গড়ে দিনে নিহত হন প্রায় ৬ জন। তবে ওই বছর ঈদুল আজহার আগে-পরের ছয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা যদি গড় করা হয়, তবে তা ১১ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ঈদুল আজহার সময় নিহত হয়েছিলেন ৭০ জন। 

Visit bettingx.bond for more information.

উৎসব আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠার কথা, অথচ ঈদের সময় সড়ক যে বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে, তা এই পরিসংখ্যানে অনেকটাই স্পষ্ট। পুলিশের এক গবেষণায় এই চিত্র ফুটে ওঠে।

গবেষণায় সড়কে দুর্ঘটনার জন্য পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বেপরোয়া গাড়িতে চালানোর কারণে। এ জন্য অবশ্য চালকেরা অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানোর জন্য তাঁদের ক্লান্তিকে দায়ী করেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও আহত হন যাঁরা, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যে তার প্রভাবও তুলে এনেছে এই গবেষণা। এতে দেখা যায়, আহতরা দীর্ঘ সময় বড় ধরনের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়। 

পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিচার্জ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগ ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নিয়ে গবেষণাটি করেছিল। গবেষণার কাজটি করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে বাড়তি চাপ দুর্ঘটনা বাড়িয়ে তোলে, তাতে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ে। ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনার হার বেশি দেখা যায়। 

অন্য সব বছরের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কম-বেশি হলেও দুই ঈদের সময় দুর্ঘটনা এবং এতে হতাহতের হার প্রায় একই থাকছে। তাই ঈদের সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

৮টি বড় দুর্ঘটনায় ৬৭ জনের মৃত্যু, নিচের সারির কর্মীদের শাস্তি দিয়ে দায় সারছে রেলওয়ে

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বেশি

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধানত পাঁচটি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বেপরোয়া গাড়িতে চালানোর কারণে।

২৯ শতাংশ ঘটে সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে। পথচারী পারাপারের জেব্রা ক্রসিং না থাকার কারণে ঘটে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা। ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে, ৩ শতাংশ ঘটে চালকের নেশাগ্রস্ত থাকার কারণে। ২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বিভ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে।

বেঁচে গেলেন বাবা, নিভে গেল স্ত্রী ও দুই কন্যার জীবন

বিষয়টি নিয়ে আজিমপুর থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী একটি যাত্রাবাহী বাসের চালক হৃদয় মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িচালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানোর কারণে তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ক্লান্ত শরীরে গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার জন্য কেবল চালক দায়ী নন, পথচারীদের কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সড়কে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা পথচারীকে চাপা দেওয়ার। পথচারীর গাড়িচাপার ঘটনা ২৮ শতাংশ।

এরপরেই রয়েছে একটি গাড়ির পেছনে আরেকটি গাড়ির ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা। এমন ঘটনা মোট সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার ২৪ শতাংশ। দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ১৭ শতাংশ। 

এ ছাড়া চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর জন্য ১২ শতাংশ, থেমে থাকা গাড়ি ধাক্কা দেওয়ায় ৭ শতাংশ, চলন্ত দুটি গাড়ির  পাশাপাশি সংঘর্ষের জন্য ১১ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। 

আহতদের মানসিক সমস্যা

গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২০০ ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাতে ফুটে ওঠে আহত ব্যক্তিদের মানসিক অবস্থার ওপর দুর্ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব। 

গবেষণায় দেখা যায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ শতাংশ আতঙ্কে, ১৯ শতাংশ ট্রমায় ভোগেন। ১৭ শতাংশ আত্মবিশ্বাস হারান, ১২ শতাংশ হতাশায় ও ১২ ভাগ নানা মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এ ছাড়া শারীরিক ব্যথাসহ নানা সমস্যা তো রয়েছেই। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৯৮ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনাকে একটি গুরুতর সমস্যা বলে মনে করেন। বাকি ২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনাকে প্রধান সমস্যা মনে করেন না।

দুর্ঘটনার শিকার কারা

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ পুরুষ, ২৫ শতাংশ নারী ও ৩৬ শতাংশ শিশু।

পেশাগত দিক থেকে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ২৯ শতাংশ ব্যবসায়ী। এরপর রয়েছে বেকার ১২ শতাংশ, গাড়ির চালক ১১ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ শতাংশ অশিক্ষিত, ২৫ শতাংশ এসএসসির দোরগোড়ায় এলেও পাস করতে পারেননি, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছেন ২৪ শতাংশ। 

গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ শতাংশের মাসিক আয় ৫ হাজার টাকার নিচে। ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করতেন ২৮ শতাংশ। 

গবেষণায় দেখা যায়, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর ৯৬ শতাংশই বলেছে, পরিবারে আহতদের মধ্যে কর্মসক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের প্রয়োগ, উচ্চ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

Read full story at source