ঈদে রাজধানীর সড়ক ও বাজারের চিত্র প্রায় একই। বাজারে চিরচেনা ভিড় নেই। পণ্যের দামও কমেছে। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে শসার দাম প্রায় অর্ধেক কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। লেবুর দামও বেশ কমেছে। অথচ ঈদের আগের দিনও লেবু–শসার দাম বেশ চড়া ছিল।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
দুই দিনের ব্যবধানে কিছুটা দাম কমেছে গরু ও মুরগির মাংসের। এদিকে মাছের বাজারে ক্রেতার ভিড় নেই। অবশ্য মাছের বাজারে তেমন দাম কমেনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ঈদে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। তবে এখনো নতুন পণ্যের সরবরাহ আসেনি। আরও দু–তিন লাগবে নতুন চালানের পণ্য আসতে। মজুতের পুরোনো পণ্য শেষ করার জন্য অনেকেই দাম কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে ক্রেতা না থাকায় চাহিদাও কম।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দোকান বন্ধ। তবে মাংসের দোকানে ও কাঁচাবাজারে দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি বেচাকেনা হচ্ছে।
লেবু ও শসার দাম রোজার শুরু থেকেই চড়া ছিল। তবে ঈদের পর আজ প্রথম দিনেই লেবু–শসার দাম কমতে শুরু করেছে। এসব বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ঈদের আগের দিনও শসা বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৬০-১০০ টাকায়। আর প্রতি হালি লেবু আকারভেদে ৫০-১০০ টাকা হালি। ঈদের আগে যা ছিল ৮০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেগুনও কেজিতে ২০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচ, টমেটো, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আব্বাস বলেন, ‘এখনো ঈদের জন্য আনা অনেক সবজি বিক্রি হয়নি। তাই কিছু পণ্যে লাভ কম হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি।’
রাজধানীর টাউন হল বাজারের অধিকাংশ মাছের দোকান বন্ধ। ক্রেতাও নেই বললেই চলেমাছবাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে
ঈদে মাংসের চাহিদা বাড়ে। আর মাছের চাহিদা কমে যায়। তবে কিছু মাছের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে বেশি কদর থাকে ইলিশ ও চিংড়ি মাছের। ঈদে এই দুই ধরনের মাছের কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে চাহিদা না থাকায় কমেছে ইলিশের দাম।
ঈদের দুই দিন আগে টাউন হল বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতিটি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে এক কেজির আশপাশের ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। এখন এক কেজির আশপাশের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর ৪০০ গ্রামের ওপরের ওজনের ইলিশের প্রতি কেজি দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা।
তবে চিংড়ির দাম কমেনি। ঈদের আগে গলদা চিংড়ি আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এখনো একই দাম বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ কম। বেশির ভাগ মাছ আগের দাম বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি মার্কেটের মাছ বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখনো আগের দামেই চিংড়ি বিক্রি করছি। এবার চিংড়ির দাম বেশি হওয়ায় তেমন বিক্রি হয়নি। তাই এখন কিছু লোকসান হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি।’
কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারেও ক্রেতার চিরচেনা ভিড় ছিল নামাংসের দাম কমেছে
ঈদের আগের কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছিল, গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০০-৭৫০ টাকা। ঈদের পরদিন মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। সরেজমিনে রাজধানীর তিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৮০ টাকা কেজিতে।
এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ আরমান মাংস বিক্রি করছেন ৭০০ টাকা কেজিতে। ঈদের আগের দিন মাংস বিক্রি করেছেন ৭৫০ টাকা কেজি দরে। এই পার্থক্যের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গাবতলী থেকে গরু সংগ্রহ করি। সেখানে চাহিদা বাড়লে গরুর দাম বেড়ে যায়। আজ কম দামে পেয়েছি। তাই কমেই বিক্রি করছি।’
তবে মুরগির দাম তেমন কমেনি। এখনো বেশির ভাগ বাজারে ঈদের আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ২১০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। আর দেশি মুরগির দামও কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকা কেজিতে।
