ইতিহাসে ১৬ রমজান দিনটি অনন্য রণকৌশলের দিন হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনে ইসলামের প্রথম বড় যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারিত হয় পানির কূপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে। এই দিনেই হজরত আয়েশা (রা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
বদরের কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ
২ হিজরির ১৬ রমজান (৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বড় যুদ্ধ ‘বদর’-এর এক চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন। মহানবী ও তাঁর সাহাবিরা বদরের ‘আদওয়াতুল দুনিয়া’ (মদিনার নিকটবর্তী প্রান্ত) নামক স্থানে পৌঁছান। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ, ২/৪৫৫, ১৯৫৫)
সাহাবি হুবাব ইবনে মুনজির (রা.)-এর পরামর্শে মুসলিম বাহিনী পানির কূপগুলোর সবচেয়ে কাছে অবস্থান নেয়, যাতে কুরাইশরা পানি থেকে বঞ্চিত হয় এবং মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত থাকে।
পবিত্র কোরআনের বর্ণনামতে, এই রাতে আল্লাহ মুমিনদের ওপর এক প্রশান্তির তন্দ্রা এবং রহমতের বৃষ্টি নাজিল করেছিলেন, যা তাঁদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২৭০, ১৯৮৮)
ওমরের ‘আমানত’ আর হাজ্জাজের বিদায়আয়েশা (রা.)-এর বিদায়
৫৮ হিজরির ১৬ রমজান (৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দ) রাতে হজরত আয়েশা (রা.) ইন্তেকাল করেন। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ২/১৯৩, ১৯৮৫)
তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নারী ফকিহ এবং ২২১০টি হাদিসের বর্ণনাকারী। সাহাবিদের যেকোনো আইনি সমস্যায় তিনি ছিলেন শেষ ভরসা। তাঁর ওসিয়ত অনুযায়ী তাঁকে রাতে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন হজরত আবু হুরায়রা (রা.)। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/১০০, ১৯৮৮)
কাশ্মীরে প্রথম গণ-রোজা
৪০৯ হিজরির ১৬ রমজান (১০১৯ খ্রিষ্টাব্দ) সুলতান মাহমুদ গজনভি তাঁর বাহিনী নিয়ে কাশ্মীরের সীমান্তে পৌঁছালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বদলে তৎকালীন হিন্দু রাজা ‘রাজা’ ইসলাম গ্রহণ করেন।
এর ফলে কাশ্মীরি জনগণ প্রথমবারের মতো সম্মিলিতভাবে রোজা পালন শুরু করে। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/১২০, ১৯৮৭)
খাদিজা (রা.)–এর বিদায়, নিজামুল মুলক হত্যাকাণ্ডইতিহাসবিদ আল-মাকরিজির বিদায়
৮৪৫ হিজরির ১৬ রমজান (১৪৪২ খ্রিষ্টাব্দ) মিসরের ‘ইতিহাসের চোখ’ হিসেবে খ্যাত তাকিউদ্দিন আল-মাকরিজি ইন্তেকাল করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৫/৩১০, ১৯৮৮)
তিনি তাঁর আল-খিতাত গ্রন্থে মিসরের রাস্তাঘাট, সমাজ ও অর্থনীতির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম সমাজতাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি মিসরের দুর্ভিক্ষ ও মুদ্রাস্ফীতির কারণ হিসেবে শাসকের দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছিলেন। (সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৪২০, ২০০৪)
সুলতানা কোসেম নিহত
১০৬১ হিজরির ১৬ রমজান (১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ) অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে ‘অন্তঃপুর শাসন’ (Sultanate of Women) যুগের অবসান ঘটে। ক্ষমতাধর সুলতানা কোসেম এই রাতে নিজ প্রাসাদে আততায়ীর হাতে নিহত হন।
তিনি তাঁর নাতি চতুর্থ মুহাম্মদের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অটোমান প্রশাসনে ‘কুপ্রুলু’ উজির পরিবারের উত্থান ঘটে, যাঁরা পুনরায় রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সামরিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনেন।
দামেস্কে কালো পতাকা, আল–আজহারের প্রাঙ্গণে নেপোলিয়নের ঘোড়া