ওটিটিতে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনুরাগ কশ্যপের সিনেমা ‘কেনেডি’। এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি লিওনি। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, এই সিনেমায় সুযোগ পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সানি লিওনি।
Visit fish-roadgame.online for more information.
কেনেডি ছবিতে ‘চার্লি’ চরিত্র যেন এক অন্য সানি লিওনিকে সামনে এনেছে। তিন বছর পর ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রমহলে আলোচিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সানি লিওনি জানিয়েছেন, তিনি অনুরাগ কশ্যপকে খুবই বড় মানের নির্মাতা মনে করেন। তাঁর ভাষায়, ‘অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তিনি সেটে পাগলাটে কোনো কঠোর পরিচালক নন। তাঁর প্রত্যাশা থাকে—আপনি প্রস্তুত হয়ে আসবেন, জানবেন কী করতে হবে। তবে তিনি সময় দেন, যা সবাই দেন না।’
‘কেনেডি’—এক ফোনকল থেকে কান উৎসবে
সানি লিওনির কাছে এই ছবির প্রস্তাবটিই ছিল অবাক করা। মূলধারার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও অনুরাগ কশ্যপের মতো নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়া তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো।
সানি লিওনি আরও বলেন, ‘শিল্পে নানা রাজনীতি থাকে। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বদল ঘটে। তাই প্রথম দৃশ্যের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল—যেকোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু যখন প্রথম শটটা হলো, তখন মনে হলো—হ্যাঁ, চার্লি সত্যিই এখানে আছে।’
ছবিটি ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে প্রিমিয়ার হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবির প্রশংসা নির্মাতা ও শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পরে এটি জিও মামি মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।
‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি‘চার্লি’র রহস্যময় হাসি
ছবিতে সানি লিওনের চরিত্র চার্লির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য—অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তাঁর রহস্যময় হাসি। এই হাসিকে নিখুঁত করতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই অদ্ভুত হাসিটা অনুশীলন করেছি। লিফটে, সেটে, বিমানবন্দরে—যেখানে সুযোগ পেয়েছি, হাসতাম। আশপাশের মানুষ ভাবত আমি পাগল হয়ে গেছি! কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল চরিত্রটাকে নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়ার উপায়,’ বলেন তিনি।
সানি স্বীকার করেন, তিনি সহজে বিব্রত হন না। ‘আমি হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খাই। অন্যরা লজ্জা পায়, আমি না। তাই এই হাসি নিয়েও কখনো অস্বস্তি হয়নি,’—যোগ করেন তিনি।
সানি লিওনির জীবন বদলে দেওয়া ছবি এটাওটিটিতে মুক্তি ও অপেক্ষার গল্প
দীর্ঘ উৎসবযাত্রার পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ‘কেনেডি’ ওটিটিতে মুক্তি পায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও ভারতে মুক্তির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এ প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় বলেন, প্রতিটি ছবিরই নিজস্ব সময় থাকে, সময় হলে সে তার জায়গা খুঁজে পায়। আমরা এই ছবিকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছি। মুম্বাইয়েও দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। ছবিটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন ছিল এবং এখন তা হচ্ছে—এটাই বড় কথা।’
প্রশংসা, পর্যালোচনা ও সামনে পথচলা
চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন সানি। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বলেছেন, তাঁরা কাজটা পছন্দ করেছেন। সেটা সত্যিই আনন্দ দিয়েছে, বলেন তিনি।
ওটিটিতে মুক্তির পর ইতিবাচক পর্যালোচনাও তাঁকে বিস্মিত করেছে। ‘অনেক দিন পর মনে পড়ল—রিভিউ বলে একটা ব্যাপার আছে! এত সুন্দর প্রতিক্রিয়া পাব, ভাবিনি,’—হাসতে হাসতে বলেন সানি।
নিজের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে তরুণ বয়সের নিজেকে কী বলতেন? সানির জবাব, ‘বলতাম—সিটবেল্ট বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সহজে পাইনি। লড়তে হয়েছে, আঁকড়ে ধরতে হয়েছে। একটা দরজা বন্ধ হলে আরেকটা খোলার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।’
এনডিটিভি অবলম্বনে
